বাবার চায়ের দোকানে করতেন কাজ! কোচিং ছাড়াই UPSC-তে বাজিমাত, IAS হয়ে নজির হিমাংশুর

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাবার চায়ের দোকান থেকে সফলভাবে দেশের কঠিনতম পরীক্ষায় সফলতা (Success Story) অর্জন, এই কাহিনি উত্তরাখণ্ডের হিমাংশু গুপ্তা। দারিদ্র্য, সংগ্রাম এবং সীমাহীন প্রতিকূলতার মধ্যেও যে স্বপ্নপূরণ সম্ভব, তারই জীবন্ত উদাহরণ হিমাংশু গুপ্তা। একসময় বাবার ছোট্ট চায়ের দোকানে চা পরিবেশন করা, এঁটো বাসন মাজা এবং সংসারের আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে বড় হয়ে ওঠা এই যুবক আজ ভারতের একজন আইএএস অফিসার। তাঁর জীবনের গল্প শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের কাহিনি নয়, বরং লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। বিশেষ করে কোনও ব্যয়বহুল কোচিং প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টায় দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসিতে পরপর তিনবার সাফল্য অর্জন করে তিনি এক বিরল নজির স্থাপন করেছেন।

হিমাংশু গুপ্তার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

হিমাংশুর শৈশব কেটেছে উত্তরাখণ্ডের এক সাধারণ পরিবারে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই দুর্বল ছিল যে পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই তাঁকে বাবার চায়ের দোকানে সাহায্য করতে হতো। স্কুলজীবন শেষ করে তিনি দিল্লির নামী হিন্দু কলেজে পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তি হন। কিন্তু দিল্লির মতো ব্যয়বহুল শহরে থাকা ও পড়াশোনার খরচ চালানো তাঁর পরিবারের পক্ষে সহজ ছিল না। তাই তিনি টিউশন পড়িয়ে নিজের খরচের ব্যবস্থা করেন। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি তাঁর একাগ্রতা কখনও কমেনি। বরং প্রতিটি বাধাই তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে (Success Story)।

 

আরও পড়ুন:জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে গো গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরশিপ, বাড়ছে ব্যবসার সুযোগ

দিল্লিতে আসার আগে হিমাংশুর সিভিল সার্ভিস সম্পর্কে তেমন কোনও ধারণা ছিল না। কলেজে পড়ার সময় বন্ধুদের কাছ থেকেই তিনি প্রথম ইউপিএসসি এবং প্রশাসনিক পরিষেবার গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন। দেশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। এরপর তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগদানের লক্ষ্য স্থির করেন। স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর তিনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সেখানেও প্রথম স্থান অধিকার করেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার একাধিক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশের সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রশাসনিক পরিষেবার পথই বেছে নেন।

২০১৬ সাল থেকে হিমাংশু পূর্ণ উদ্যমে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি কোনও কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে পারেননি। তবে এই সীমাবদ্ধতাকেই তিনি শক্তিতে পরিণত করেন। ইন্টারনেট, এনসিইআরটি বই এবং নিয়মিত সংবাদপত্রকে সঙ্গী করে তিনি নিজের প্রস্তুতি চালিয়ে যান। তাঁর মূল মন্ত্র ছিল কম সংখ্যক নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে পড়া এবং বারবার পুনরাবৃত্তি করা। এই কৌশলই তাঁকে সাফল্যের পথে এগিয়ে দেয়। ২০১৮ সালে প্রথম প্রচেষ্টায় তিনি ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ট্রাফিক সার্ভিসে নির্বাচিত হন। পরের বছর আবার পরীক্ষা দিয়ে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে যোগদানের সুযোগ পান।

Success Story of Himangshu Gupta will amaze you.

আরও পড়ুন: এসেছিলেন IVF চিকিৎসার আশায়! দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কাঁধে মাথা রেখে মৃত্যু আফ্রিকান দম্পতির

তবে এখানেই থেমে থাকেননি হিমাংশু। আইপিএস অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীনও তিনি নিজের চূড়ান্ত লক্ষ্য আইএএস হওয়ার স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরেছিলেন। ২০২০ সালে তৃতীয়বার ইউপিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ১৩৯ অর্জন করেন এবং শেষ পর্যন্ত আইএএস অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হন। তাঁর এই সাফল্য (Success Story) প্রমাণ করে যে, প্রতিকূলতা কখনও মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে না; বরং দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসই সাফল্যের প্রকৃত চাবিকাঠি। আজ হিমাংশু গুপ্তার জীবনকাহিনি অসংখ্য তরুণের কাছে বার্তা দেয়, স্বপ্ন বড় হলে বাধা যত বড়ই হোক, তা জয় করা সম্ভব।