বাংলাহান্ট ডেস্ক: ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের জেরে টেলিগ্রামের (Telegram) উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্র। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটি। কিন্তু মামলার শুনানিতে কেন্দ্র যে অভিযোগগুলির কথা তুলে ধরেছে, তা নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা মহলে। সরকারের দাবি, টেলিগ্রাম শুধু প্রশ্নপত্র কেনাবেচার মাধ্যম নয়, বরং ড্রাগ পাচার, সাইবার অপরাধ, পর্নোগ্রাফি এবং বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপের অন্যতম বড় হাতিয়ার হয়ে উঠছে। এমনকি আদালতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে টেলিগ্রামকে ‘নতুন ডার্ক ওয়েব’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
হাইকোর্টে টেলিগ্রামের (Telegram) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলল কেন্দ্র
আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, টেলিগ্রামকে (Telegram) ব্যবহার করে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM), পর্নোগ্রাফিক উপাদান, সাইবার হামলার পরিকল্পনা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের বক্তব্য, অপরাধীরা দ্রুত টেলিগ্রামে এমন সব লিঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে, যেখান থেকে সরাসরি ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করা যায়। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পক্ষে অপরাধের উৎস খুঁজে বের করা এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। কেন্দ্রের দাবি, এই পরিস্থিতি শুধু সাইবার নিরাপত্তার জন্য নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: বিনা কোচিংয়ে প্রথম প্রচেষ্টায় সাফল্য! মাত্র ২১ বছর বয়সে UPSC-তে বাজিমাত বিদূষীর
সরকার আরও জানিয়েছে, টেলিগ্রামের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য অপরাধীদের কাজে সুবিধা করে দিচ্ছে। বড় আকারের গ্রুপ, চ্যানেলভিত্তিক সম্প্রচার ব্যবস্থা, দ্রুত অ্যাকাউন্ট বদলানোর সুযোগ এবং পরিচয় গোপন রাখার সুবিধা— এই সবই অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই প্ল্যাটফর্মে শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্ট ছড়ানোর পাশাপাশি জঙ্গি নেটওয়ার্ক তৈরির মতো কর্মকাণ্ডও সংগঠিত হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, বহু ক্ষেত্রে তথ্যের উৎস খুঁজে পাওয়া বা অপরাধীদের নাগাল পাওয়া সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ছে। তাই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা, তথ্য সংরক্ষণ এবং তদন্তে সহযোগিতার বিষয়টি আরও কঠোরভাবে দেখা প্রয়োজন বলে আদালতে জানিয়েছে সরকার।
তবে টেলিগ্রাম এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থার দাবি, তারা শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্ট এবং অন্যান্য বেআইনি উপাদানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে আপত্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত করা হয় এবং ব্যবহারকারীদের রিপোর্টের ভিত্তিতেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। টেলিগ্রামের মতে, কোটি কোটি সাধারণ ব্যবহারকারীর যোগাযোগের মাধ্যমকে অপরাধীদের কাজের জন্য দায়ী করা ঠিক নয়। সংস্থাটি বারবার দাবি করেছে, আইন মেনে চলা এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুন: আর নয় অপেক্ষা! জুলাই থেকেই কার্যকর ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, ঘোষণা হল দিনক্ষণ
এদিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও টেলিগ্রাম (Telegram) এখন নজরদারির আওতায়। শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট রোধে প্ল্যাটফর্মটির ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে ‘নিট-ইউজি’ প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামের উপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং ৩০ জুন পর্যন্ত সীমিত ব্যবহারের নির্দেশ জারি হয়েছে। অন্যদিকে টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পাভেল দূরভ এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে দাবি করেছেন, এর পিছনে কর্পোরেট স্বার্থ কাজ করতে পারে। তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, ভারতের একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর ভূমিকা থাকতে পারে। যদিও টেলিকম শিল্পের একাধিক সূত্র এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ফলে প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে টেলিগ্রামকে ঘিরে এই বিতর্ক এখন আরও জটিল মোড় নিয়েছে।

















