বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পেট্রোলচালিত বাইক-স্কুটি ছেড়ে অনেকেই ইলেকট্রিক ভেহিকেলের দিকে ঝুঁকছেন। তবে ২ বছর পর কি বন্ধ হয়ে যাবে পেট্রোল বাইক-স্কুটি (Petrol Bike)? দিল্লির নয়া ইলেকট্রিক ভেহিকেল নীতিতে (Delhi EV Policy) কার্যত এমনই প্রস্তাব করা হয়েছে। আর তাতেই উদ্বেগ বেড়েছে অনেকের।
ইলেকট্রিক ভেহিকেল নীতিতে কী প্রস্তাব করা হয়েছে? | (Delhi EV Policy)
আগামী ৩০ জুন বর্তমান ইভি পলিসির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এরপর কার্যকর হতে পারে নতুন ইভি পলিসি। তার খসড়াতেই বলা হয়েছে, ২০২৮ সাল থেকে কোনও পেট্রোলচালিত বাইক অথবা স্কুটির নতুন করে রেজিস্ট্রেশন হবে না। অর্থাৎ কেবলমাত্র ইলেকট্রিক বাইক-স্কুটির রেজিস্ট্রেশন করানো যাবে। ওই বছরের ১ এপ্রিল থেকে এই নিয়ম চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ জেলায় জেলায় সারা বছর চলবে উদযাপন! শ্যামাপ্রসাদের জন্মজয়ন্তী নিয়ে নয়া নির্দেশিকা নবান্নর
এই বিষয়ে দিল্লি সরকারের বক্তব্য, দিল্লির মোট যানবাহনের মধ্যে টু-হুইলারের সংখ্যা প্রায় ৬৭ শতাংশ। রাজধানীর বায়ুদূষণ কমাতে এই দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া দরকার। সরকার আশা করছে নতুন নিয়ম এবং ভর্তুকি যদি চালু হয় তাহলে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে।
যদিও এই বিষয়ে অটোমোবাইল সেক্টরের একাংশের তরফ থেকে আপত্তি তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এখনও অনেক মানুষের কাছে সবচেয়ে সস্তার অপশন হল পেট্রোলচালিত বাইক-স্কুটি। সেক্ষেত্রে যদি একেবারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় তাহলে তাঁরা সমস্যায় পড়বেন। এছাড়া এখনও তেমন ফাস্ট চার্জিংয়ের বন্দোবস্ত নেই। ফলে যারা রোজ টু-হুইলার নিয়ে সফর করেন কিংবা লং রাইডে যেতে পছন্দ করেন তাঁদেরও সমস্যা হবে।

এছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি বানাতে যে সেল ও বিরল খনিজ প্রয়োজন হয়, সেগুলি দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। দেশে যে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, তার একটা বড় অংশ কয়লার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেই এখনও আসে। ফলে বিষয়টা পরিবেশের দিক থেকে কতখানি লাভজনক হবে সেই নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এই বিষয়ে সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফাকচারার্সদের দাবি, এখন বিএস-৬.২ এমিশন স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলা পেট্রোলচালিত টু-হুইলার আগের চেয়ে অনেক কম দূষণ ছড়ায়। সেই কারণে নতুন গাড়ির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে পুরনো ও অধিক দূষণ ছড়ানো যানবাহন আস্তে আস্তে সরানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তাঁরা।
দিল্লির নয়া ইলেকট্রিক ভেহিকেল নীতিতে পেট্রোল বাইক-স্কুটি সংক্রান্ত এই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই জোর শোরগোল ফেলেছে। শেষ অবধি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী নেওয়া হয় সেটাই দেখার।













