প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারতে আমূল পরিবর্তন! ১১ বছর পূর্ণ করতে চলেছে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ

Published on:

Published on:

The 'Digital India' initiative is set to complete 11 years.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হল ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ (Digital India)। আগামী ১ জুলাই ১১ বছরে পদার্পণ করতে চলেছে এই ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’। ২০১৫ সালে ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে শুরু হয় এই উদ্যোগ, যা গত এক দশকেরও বেশি সময়ে দেশের প্রশাসন, অর্থনীতি এবং নাগরিক পরিষেবার পুরো চেহারাই বদলে দিয়েছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই ছিল প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলা। সেই লক্ষ্য পূরণে ডিজিটাল ইন্ডিয়া আজ ভারতের ডিজিটাল রূপান্তরের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রের মতে, এই উদ্যোগ শুধু সরকারি পরিষেবাকে আধুনিক করেনি, বরং কোটি কোটি মানুষকে প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও ক্ষমতাশালী এবং স্বনির্ভর করে তুলেছে।

১১ বছর পূর্ণ করতে চলেছে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ (Digital India) উদ্যোগ:

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বহুবার বলেছেন, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার (Digital India) উদ্দেশ্য কেবল প্রযুক্তির প্রসার নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে ডিজিটালভাবে ক্ষমতায়ন করা। গত ১১ বছরে ই-গভর্নেন্স, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিক লেনদেন এবং সরকারি পরিষেবার ক্ষেত্রে ব্যপকভাবে পরিবর্তন এসেছে। সরকারি প্রকল্পগুলিকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং সহজলভ্য করে তুলতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে জন ধন যোজনা, আধার এবং মোবাইল সংযোগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘জ্যাম (JAM) ট্রিনিটি’। যে ব্যবস্থার মাধ্যমেই সরকারি ভর্তুকি ও বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ সরাসরি নিয়মিত উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে মিডলম্যানদের ভূমিকা কমেছে এবং দুর্নীতির সুযোগও অনেকটাই সীমিত হয়েছে। পাশাপাশি আধার প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ১৪৪ কোটিরও বেশি নাগরিক একটি নিরাপদ ও স্বতন্ত্র ডিজিটাল পরিচয়ের আওতায় এসেছেন, যা বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন: আমেরিকার চিন্তা বাড়িয়ে এবার এই মহাসাগরে নজর চিনের! কী পরিকল্পনা লালফৌজের?

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার অন্যতম এক সবচেয়ে বড় সাফল্যের উদাহরণ ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই। আজ ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে বিশ্বজুড়ে অন্যতম সফল মডেল হিসেবে দেখা হয়।  কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৪,১৬২ কোটি ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে ভারতের দ্রুত অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে এই প্ল্যাটফর্ম। একইভাবে ডিজি-লকার পরিষেবা কাগজবিহীন প্রশাসনের পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে উঠে এসেছে। বর্তমানে ৭০.৬৯ কোটিরও বেশি মানুষ এই পরিষেবার সুবিধা নিচ্ছেন এবং ইতিমধ্যেই ৮৫০ কোটিরও বেশি ডিজিটাল নথি এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জারি করা হয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের কাজ যথেষ্ট সহজ এবং নিরাপদ হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রেও ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রভাব স্পষ্ট। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-সঞ্জীবনী’ টেলিমেডিসিন প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই পরিষেবার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪৮ কোটিরও বেশি অনলাইন চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্কুল শিক্ষাকে আরও আধুনিক ও সহজলভ্য করতে চালু হয়েছে ‘দীক্ষা’ (DIKSHA) ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম। বর্তমানে অফিসিয়ালি ২ কোটিরও বেশি মানুষ এই পরিষেবা ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে চালু হওয়া ওএনডিসি (ONDC) এখন দেশের এক হাজারেরও বেশি শহরে বিস্তৃত। প্রায় ২০ কোটিরও বেশি ভোক্তা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের সুবিধা গ্রহণ করছেন।

The 'Digital India' initiative is set to complete 11 years.

আরও পড়ুন: পেট্রল-ডিজেল নিয়ে বড় ঘোষণা রাজ্যে, সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিল শুভেন্দু সরকার

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার (Digital India) ১১ বছরের যাত্রা প্রমাণ করেছে, একটি দেশের উন্নয়নের গতি অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার। ডিজিটাল পেমেন্ট থেকে শুরু করে অনলাইন শিক্ষা, টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ এবং ই-গভর্নেন্সের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, এই উদ্যোগের ফলে প্রশাসন আরও স্বচ্ছ হয়েছে, সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ডিজিটাল অর্থনীতির দেশে পরিণত করাই এখন সরকারের লক্ষ্য।