উধাও ২০০ কোটি! রাম মন্দিরে প্রণামী চুরি, কাঠগড়ায় শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট

Published on:

Published on:

Ayodhya Ram Mandir Donation Theft Case enquiry brings more questions
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আবারও একবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অযোধ্যার রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের কার্যকলাপ (Ram Mandir Donation Theft)। কিছুদিন আগেই সাধারণ মানুষের দানের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছিল ট্রাস্টের বিরুদ্ধে। ভক্তদের কোটি কোটি টাকার হিসেবে অসঙ্গতি প্রশ্ন সামনে আসতেই উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকার। গঠিত হয়েছে তিন সদস্যের বিশেষ সিট। তারপরেও সাধারণ ভক্তদের মনে কয়েকটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

২০০ কোটি টাকার হিসেব কোথায়?

উত্তরপ্রদেশের স্থানীয় একাধিক সংবাদ মাধ্যমের দাবি অনুযায়ী দুই বছর আগে থেকে মন্দিরে জমা পড়া অনুদান গুলির হিসেব করতে গিয়ে ধরা পড়ে যে প্রায় ২০০ কোটি টাকার গরমিল হয়েছে। জমা করা অর্থ এবং লিপিবদ্ধ অর্থের মধ্যে বিশাল অংকের তফাৎ রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। খুব স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীরা প্রশ্ন করতে শুরু করে এই নিয়ে। কিন্তু ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় দাবি করেন যে নিয়মিত এই টাকার অংকের হিসেব রাখা হয় এবং তাদের চোখে কোন গরমিল ধরা পড়েনি।

ট্রাস্ট কর্মীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হিসাব বহির্ভুত কোটি কোটি টাকা

একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে মন্দিরেরই একজন সাধারন কর্মী লবকুশ মিশ্রের বাড়ি থেকে ১০-১২ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ। এলাকার লোক দাবি করেছেন যে আগে সামান্য গাড়ির সাড়ানোর কাজ করা লবকুশের মন্দিরে চাকরি পাওয়ার পর থেকেই আর্থিক অবস্থা পুরোপুরি পরিবর্তন ঘটে যায় । এই তথ্য পেতেই পুলিশ তাকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব থেকে একাধিক তথ্য সংগ্রহ করে তদন্তের অগ্রগতি ঘটাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ পুনর্বাসনের ২৯ বছর পর ফের উচ্ছেদ! সুকান্ত সেতু হকার্স মার্কেটে নোটিশ, মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

ট্রাস্টে জায়গা হয়নি আদি আন্দোলনকারীদের

একসময় শ্রীরাম মন্দির আন্দোলনের অংশ হওয়া একাধিক সাধুসন্ত ও পরবর্তীকালে ট্রাস্ট তৈরির সময় উপেক্ষিত হয়েছেন। দিগম্বর আখড়ার মহন্ত সুরেশ দাসের অভিযোগ যাদের জন্য রাম মন্দির আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সফলতা পায় সেই লোকগুলো কি পরবর্তীকালে এই ট্রাস্ট তৈরীর সময় মনে করা হয়নি। এই বিষয়ে অভিযোগ তুলে তারা নিজেদের মন্তব্য বৈঠকও করেছেন।

আরও পড়ুনঃ ১০০ বেড়ে ১২৫ দিনের কাজ, সোজা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা! ১৪১৮০ কোটি বরাদ্দ করল সরকার

এছাড়া সিসিটিভির সঠিক ব্যবহার না হওয়া, ব্যাঙ্কের সতর্কবার্তা উপেক্ষা, প্রনামীর অর্থ সংগ্রাহকদের পোশাক পরীক্ষার সঠিক ব্যবস্থার অনুপস্থিতি সহ একাধিক অভিযোগ ওঠে। ভক্তদের দাবি অনুযায়ী মন্দির তৈরির জন্য বরাদ্দ ছিল ১৮০০ কোটি টাকা। কিন্তু ভক্তদের দান করা অর্থের মোট পরিমাণ ৩০০০ কোটিরও বেশি। এই বাড়তি টাকার খরচের স্বচ্ছ হিসাব কখনোই সামনে আনেনি ট্রাস্ট। কিন্তু এই অভিযোগ ওঠার পরে সব বিষয়ে স্বচ্ছতার দাবি করছেন ভক্তরা। সিটের তদন্তে আসল সত্য সামনে আসবে বলেই আশা রয়েছে তাদের।