বাংলাহান্ট ডেস্ক: শিশুদের নিরাপদে রেখে নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারবেন—এই বিশ্বাসেই বহু কর্মজীবী বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের ডে কেয়ারে রেখে যান। কিন্তু সেই নিরাপদ আশ্রয়ই যদি পরিণত হয় নির্যাতনের কেন্দ্রে, তাহলে উদ্বেগের কারণ স্বাভাবিকভাবেই অনেক বড়। বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) একটি ডে কেয়ারকে (Daycare) ঘিরে ঠিক এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে, যা ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলেছে। অভিযোগ, কান্না করলেই দুই থেকে তিন বছর বয়সি শিশুদের ওয়াশিং মেশিনের (Washing Machine) ভিতরে ঢুকিয়ে রাখা হত, মুখে জল স্প্রে করা হত এবং কখনও দীর্ঘ সময়ের জন্য বাথরুমে আটকে রাখা হত। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই শিশুদের নিরাপত্তা এবং ডে কেয়ারগুলির তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আরও গুরুতর আকার নিয়েছে।
বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) ডে কেয়ারে কান্না বন্ধ রাখতে শিশুদের ঢুকিয়ে দেওয়া হয় ওয়াশিং মেশিনে!
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ডে কেয়ারটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ক্যাপজেমিনির (Capgemini) অফিস ক্যাম্পাসের মধ্যেই পরিচালিত হত। মূলত সংস্থার কর্মীদের ছোট সন্তানদের জন্যই এই পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যাতে অভিভাবকেরা নিশ্চিন্তে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কিন্তু অভিযোগ, সেই সুযোগের অপব্যবহার করে ডে কেয়ারের কিছু কর্মী শিশুদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করতেন। কান্না থামানোর জন্য শিশুদের ভয় দেখানো, ওয়াশিং মেশিনের ভিতরে বসিয়ে রাখা, মুখে জল স্প্রে করা এবং বাথরুমে আটকে রাখার মতো আচরণ নিয়মিত ঘটত বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন শিশু সেখানে থাকত বলেও জানা গিয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবকেরা। তাঁদের প্রশ্ন, যাদের হাতে সন্তানদের নিরাপত্তার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল, তারাই কীভাবে এমন আচরণ করতে পারেন?
আরও পড়ুন: ভারতে মারুতি সুজুকির নতুন কারখানা! মোদীর সঙ্গে যৌথভাবে উদ্বোধন করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী
তদন্তে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। অভিযোগ, ডে কেয়ারের এক কর্মী আগেই এই নির্যাতনের বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলেন এবং সুপারভাইজারের কাছে অভিযোগও জানিয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান করার বদলে অভিযোগকারী কর্মীকেই চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে তখন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সম্প্রতি নির্যাতনের একটি ভিডিও সামনে আসার পর পুরো ঘটনাই নতুন মোড় নেয়। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করে। এরপরই পুলিশ এবং কর্নাটক শিশু অধিকার কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তকারীরা ভিডিও-সহ অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন এবং ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। ভারতীয় আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্যাতনের ভিডিওও শিশু অধিকার কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কমিশন ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তবে তদন্ত এগোলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাপজেমিনি সংশ্লিষ্ট ডে কেয়ারটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে এবং অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতে মারুতি সুজুকির নতুন কারখানা! মোদীর সঙ্গে যৌথভাবে উদ্বোধন করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী
এই ঘটনা শুধু একটি ডে কেয়ারকে ঘিরে বিতর্ক নয়, বরং কর্মজীবী অভিভাবকদের আস্থা, শিশুদের নিরাপত্তা এবং ডে কেয়ার পরিচালনার মানদণ্ড নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সঙ্গে কাজ করেন এমন কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিটি ডে কেয়ারে অভিযোগ জানানোর স্বচ্ছ ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করারও দাবি উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতেই নির্ধারিত হবে, তবে এই ঘটনা শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও জবাবদিহিমূলক করার প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্টভাবে সামনে এনে দিয়েছে (Bengaluru)।













