বিক্রি করতেন সবজি, চালিয়েছেন ই-রিকশা! কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে প্রথম পদক জিতলেন ঝন্ডু কুমার

Published on:

Published on:

Jhandu Kumar wins India's first medal at this year's Commonwealth Games.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: কথায় রয়েছে, যাঁরা সংগ্রাম করেন তাঁরা কখনও পরাজিত হন না। বিহারের ঝন্ডু কুমার (Jhandu Kumar) এই চিরসত্যকে ফের প্রমাণ করেছেন। মূলত ২৮ বছর বয়সী ঝন্ডু কুমার ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে (2026 Commonwealth Games) ভারতের (India) হয়ে প্রথম পদকটি জিতেছেন। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিং ইভেন্টে এই ব্রোঞ্জ পদক জিতে ঝন্ডু কুমার দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন। মূলত, পোলিও থেকে সেরে ওঠা ঝন্ডু কুমার প্রতিযোগিতায় সফলভাবে ১৮১ কেজি এবং ১৯০ কেজি উত্তোলন করে ১৩০.৯ পয়েন্ট অর্জন করেছেন। তবে, তিনি ১৯৬ কেজির নির্ণায়ক প্রচেষ্টাটি সম্পন্ন করতে পারেননি।

এবারের কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে প্রথম পদক জিতলেন ঝন্ডু কুমার (Jhandu Kumar):

এদিকে, এই প্রতিযোগিতায় ভারতের অপর প্রতিযোগী ছিলেন সুধীর। যিনি ১১৪.১ স্কোর অর্জন করে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেন। অপরদিকে, নাইজেরিয়ার ইদ্রিস রিলুয়ান ১৩২.৮ স্কোরের ওপর ভর করে সোনা জয় করেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের ম্যাথিউ হার্ডিং ১৩১ পয়েন্ট নিয়ে রুপো জিতেছেন।

জয়ের পর উচ্ছ্বসিত প্রকাশ: জানিয়ে রাখি যে, পদক জেতার আনন্দ প্রকাশ করে ঝন্ডু কুমার বলেন, ‘আমি আমার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। প্রথমে আমি বাড়িতে আমার বাবা-মাকে ফোন করি। তারপর, আমি গৌতম ভাইয়াকে ফোন করি, যিনি ছোটবেলা থেকেই আমার সঙ্গে আছেন। আমি ছোটবেলা থেকেই তাঁর সঙ্গে অনুশীলন করেছি। এই পদকটি ভারতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের প্রথম। আমার দেশের পতাকা দেখে আমি খুব খুশি হয়েছিলাম।’ এদিকে, ঝন্ডু কুমারের এই বিরাট সাফল্যে শুভকামনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

আরও পড়ুন: তাঁদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত সমাজ! বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে আয়োজিত হচ্ছে BanglaHunt Industry Leaders Award 2026

করেছেন কঠোর সংগ্রাম: উল্লেখ্য যে, জীবনে কঠোর সংগ্রামের পর ঝন্ডু কুমার এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন। বিহারের নালন্দা জেলার হরনৌটে জন্মগ্রহণ করা ঝন্ডু পোলিওতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সংসারে নিত্যসঙ্গী ছিল অভাব। তাঁর বাবা রাস্তার ধারে সবজি বিক্রি করতেন। ঝন্ডুও বাবার সঙ্গে সবজি বিক্রিতে যোগ দেন। করোনার মতো ভয়াবহ মহামারির সময়ে ঝন্ডু কুমার তাঁর পরিবারের ভরণপোষণের জন্য একটি ই-রিকশাও চালাতেন। ঝন্ডু কুমারের ক্রীড়াজীবন শুরু হয় ২০১৭ সালে প্যারা-অ্যাথলেটিক্সের মাধ্যমে। যেখানে তিনি এফ৫৫ শট পুট এবং ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীকালে তিনি জেলা ও রাজ্য পর্যায়ে বেশ কয়েকটি পদক জয় করেন। তবে, জিমে শক্তি বাড়ানোর অনুশীলন ঝন্ডু কুমারের মনে পাওয়ারলিফটিংয়ের প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তোলে এবং তিনি খেলাটিকে পূর্ণকালীন পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: iPhone প্রেমীদের জন্য বড় ধাক্কা! অগাস্টেই ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে এই মডেলগুলির দাম

ই-রিকশা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন: জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ঝন্ডু কুমারের অভিষেক ভালো হয়নি। তিনি সফলভাবে ভারোত্তোলন করতে পারেননি। এদিকে, ২০২৩ সালে, খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁকে তাঁর ই-রিকশা বিক্রি করে দিতে হয়েছিল। প্যারালিম্পিক ব্রোঞ্জ পদক বিজয়ী রাজিন্দর সিং রাহেলু তখন ঝন্ডু কুমারের দিকে নজর দেন। ঝন্ডু কুমার রাহুলের তত্ত্বাবধানে গান্ধীনগরের সাই ন্যাশনাল সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে প্রশিক্ষণের জন্য আমন্ত্রিত হন। এই ঘটনাই তাঁর জীবন বদলে দেয়। ঝন্ডু কুমার ৭২ কেজি বিভাগে ভারতের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ২০৫ কেজি তুলে জাতীয় রেকর্ড গড়েন এবং এরপর খেলো ইন্ডিয়া প্যারা গেমসে ২০৬ কেজি তোলেন। এমতাবস্থায়, তাঁর হাত ধরেই এবারের কমনওয়েলথ গেমসে পদক জেতা শুরু করল ভারত।