বাংলা হান্ট ডেস্ক: আচ্ছা আপনি কি শুনেছেন লোকাল ট্রেনেও আইবুড়ো ভাত খাওয়া হয়। শোনেন নি নিশ্চয়ই। বিষয়টি শুনে ভাবছেন গাঁজাখুরির গল্প বলছি? যে ট্রেনে সামান্য পা রাখার জায়গা হয় না সেখানে কিভাবে আইবুড়ো ভাতের আয়োজন করা যেতে পারে। তবে বিশ্বাস না হলেও, এমন ঘটনাই ঘটেছে তাও আবার আমার আপনার চেনা লোকাল, বনগাঁ লোকালে (Bangaon Local)। হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন! বনগাঁ লোকালই আয়োজন করা হয় সহযাত্রীর আইবুড়ো ভাত। ফুল মালায় সেজে ওঠে বনগাঁ লোকাল।
বনগাঁ লোকালে (Bangaon Local) আয়োজন করা হয়েছে আইবুড়ো ভাত:
নিত্যযাত্রীদের কাছে বনগাঁ লোকাল (Bangaon Local) হচ্ছে আতঙ্কের অপর নাম। কারণ এই ট্রেনে যারা উঠেছে তারাই জানে ঠিক কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। একবার উঠলে দ্বিতীয়বার আর ওঠার কেউ নাম করে না। এবার ওই আতঙ্ক লোকালেই আয়োজন করা হলো আইবুড়ো ভাতের। ট্রেনের কামরার চারিদিক ফুল, মালা, বেলুনে সাজিয়ে তোলা হয়। ট্রেনের সহযাত্রীর আইবুড়ো ভাত বলে কথা বিন্দুমাত্র কমতি রাখা যাবে না। আইটেমেও কোন কমতি ছিল না। একদম জমকালো আয়োজন।
জানুয়ারিতে বিয়ে করবেন শুভেন্দু: সময়টা চলছে বিয়ের মরশুম। আর এই মরশুমে গাঁটছড়া বাঁধবে বনগাঁ নতুন গ্রামের বাসিন্দা শুভেন্দু চক্রবর্তী। আগামী বছর জানুয়ারিতেই কাঁচরাপাড়ার পাত্রীর সঙ্গে সাতপাঁক ঘুরবেন তিনি। জানা যায় শুভেন্দু রেলে চাকরি করেন। বাড়ি থেকে অফিসের দূরত্ব অনেকটাই। তাই প্রতিদিন ৮টা ৮-এর বনগাঁ-শিয়ালদা লোকাল ধরেন তিনি। আর এই লোকালেই পাতিয়েছেন জনা ২০র মত বন্ধু। যদিও আজকাল ট্রেনে এমন দল উঠতে প্রায়দিনই দেখা যায়। শুভেন্দুর দলে প্রায় সকলেই সমবয়সী। দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনে যাতায়াত করার সুবাদেই এই বন্ধুত্ব গড়েছে। আর তাদের মধ্যে প্রথম বিয়ে করতে চলেছেন শুভেন্দু। বন্ধুর বিয়ের কথা শুনে সকলের মনে এক আলাদাই উত্তেজনা।
আরও পড়ুনঃ ভীড়ের মাঝেই রচনার সাথে যা করলেন কাঞ্চন! নিমেষে ভাইরাল ভিডিও
কিন্তু বন্ধুকে আইবুড়ো ভাত খাওয়াতে হবে! কোথায় খাওয়াবে চিন্তাভাবনা যখন চলছে তখন মাথায় আসে বনগাঁ লোকালের (Bangaon Local) কথা। যেমন ভাবা তেমন কাজ। সোমবার ৮টা ৮ এর বনগাঁ-শিয়ালদা লোকালেই আয়োজন করা হয় আইবুড়ো ভাতের। জানা গিয়েছে প্রতিদিন এই ট্রেন কারশেড থেকে বেরিয়ে বনগাঁ স্টেশনে প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে। আর ওই ৩০ মিনিটকেই কাজে লাগিয়ে নিলেন শুভেন্দুর বন্ধুরা। ৮ নম্বর কামরার পুরো হুলিয়াই বদলে দিলেন তারা। বেলুন, ফুলের সাজে সেজে ওঠে কামরাটি। শুভেন্দু চেনা কামরায় পা দিতেই রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ। বন্ধুদের কীর্তি দেখে রীতিমতো বাক্যহারা হয়ে পড়েন। তবে অবাক হওয়া এখানেই শেষ নয়। শুভেন্দুর অফিসের পোশাক বদলিয়ে পাঞ্জাবি পাজামা পরিয়ে, মাথায় টোপর দিয়ে তারপরই আইবুড়ো ভাত খাওয়ানো হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি কিছু করিনি, যা করেছে…’! ভরা এজলাসে এবার সব ‘ফাঁস’ করে দিলেন পার্থ? তোলপাড় বাংলা
মেনুতে ঠিক কি কি ছিল: খাবারের আইটেমেও ছিল সব একসে বার কার এক পদ। সাদা ভাত, পাঁচ রকম ভাজা, কচু শাক, মাছের মাথা, চিংড়ি মাছের মালাইকারি, পমফ্রেট মাছ, মটন কষা, চাটনি, পাঁপড়, মিষ্টি আর সবশেষে পান। সেই সাথে ছিল সহযাত্রীদের তরফেও নতুন জীবনের শুভেচ্ছা, সাথে ভালোবাসা এবং ছোট্ট উপহারও। চলন্ত ট্রেনে আয়োজন করা আইবুড়ো ভাতের ছবি সমাজমাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল ছবিতে, শুভেন্দুর হাসি মাখা মুখ সকলের নজর কেড়েছে। তবে আবার বনগাঁ লোকালের (Bangaon Local) এমন চিত্র দেখে অনেকেই আকাশ থেকে পড়েছেন। এদিকে এমন আয়োজন দেখে যে হবু বর মশাই খুশি সেটাও বোঝা গিয়েছে।