বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতি কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত। এই আবহেই বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ (Banga Bibhushan) সম্মান ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হলেও সাম্প্রতিক বিতর্কের পর সরকারের এই পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ (Banga Bibhushan) প্রত্যাহার
চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর হাতে এই পুরস্কার (Banga Bibhushan) তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সম্মান ফিরিয়ে নেওয়া হল। পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার কারণ হিসেবে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের একাধিক মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর বক্তব্যে নেতাজিকে অসম্মান করা হয়েছে। সেই কারণেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয় নিয়ে কড়া বার্তা দেন। তিনি জানান, নেতাজিকে অপমান করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও পোস্ট করা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে গ্রেফতারিও করা হতে পারে। পাশাপাশি সাইবার সেলকে বিষয়টি নজরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এই বিতর্কের মধ্যেও নিজের বক্তব্যে অনড় রয়েছেন অনন্ত মহারাজ। তাঁর দাবি, তিনি কাউকে অপমান করেননি বা গালাগাল দেননি। তিনি শুধু ইতিহাসের কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, যে সময়ের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেই সময়ে তাঁর জন্মও হয়নি। তাই তিনি ইতিহাসে যা পড়েছেন, সেটাই বলেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কবার্তা প্রসঙ্গেও অনন্ত মহারাজ বলেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়। কিন্তু তিনি কোনও মিথ্যা তথ্য বা মনগড়া গল্প বলেননি। কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগও তোলেননি বলে দাবি তাঁর। নেতাজিকে নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে ইতিমধ্যেই অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই ঘটনার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে অনন্ত মহারাজের একটি মন্তব্য। তিনি দাবি করেছিলেন, নেতাজির নিজের ক্ষমতায় আজাদ হিন্দ ফৌজ গড়ে ওঠেনি। জার্মানি ব্রিটিশ সেনাদের বন্দি করে পরে নেতাজির হাতে তুলে দিয়েছিল। এমনকি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজির বিশেষ কোনও ভূমিকা ছিল না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ মাসে ১০ হাজারের বেশি আয়? মিলবে না অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকা, জেনে নিন সব শর্ত
এদিকে অনন্ত মহারাজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্যসভা নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি দাবি করেছিলেন, ১৯৭৫ সালে অসমের সরুপেটা ইংলিশ হাইস্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণি পাশ করেছেন। কিন্তু অসম সরকারের দাবি, ওই নামে কোনও স্কুলের অস্তিত্বের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর জমা দেওয়া হলফনামার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হলে ভবিষ্যতে তাঁর সাংসদ পদ নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে (Banga Bibhushan)।













