বাংলা হান্ট ডেস্ক : পরীক্ষা মানেই শুধু বই মুখস্থ করে নম্বর তোলা—এই ধারণা বদলানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিল রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। জাতীয় শিক্ষানীতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগেই পড়ুয়াদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে নতুন কাঠামো আনার পথে হাঁটছে স্কুলশিক্ষা দফতর। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই রাজ্যে চালু হতে চলেছে PARAKH। নতুন এই ব্যবস্থায় পড়ুয়াদের শুধু পরীক্ষার ফল নয়, তাদের শেখার দক্ষতা এবং সামগ্রিক অগ্রগতিও মূল্যায়নের আওতায় আসবে। বদল আসতে পারে স্কুলের পরীক্ষা থেকে শুরু করে রিপোর্ট কার্ডেও।
শিক্ষাক্ষেত্রে বড় বদলের পথে সরকার (Government of West Bengal)
জাতীয় শিক্ষানীতি ধাপে ধাপে রাজ্যে বাস্তবায়নের কথা আগেই জানিয়েছিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। সেই ঘোষণার পর এবার PARAKH নিয়ে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু হল। সোমবার বিদ্যাসাগর ভবনের অডিটোরিয়ামে এই বিষয়ে পাঁচ দিনের কর্মশালার সূচনা হয়েছে। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়াই এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
PARAKH-এর অর্থ ‘Performance Assessment, Review, and Analysis of Knowledge for Holistic Development’। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর অধীনে NCERT-এর তত্ত্বাবধানে এই মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এর লক্ষ্য মূলত পড়াশোনার ক্ষেত্রে মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে পড়ুয়াদের বাস্তব দক্ষতা, বিষয় বোঝার ক্ষমতা এবং শেখা বিষয় প্রয়োগের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া।
নতুন ব্যবস্থায় একজন পড়ুয়ার অগ্রগতি বোঝার জন্য শুধু পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে ধরা হবে না। তার বদলে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে তৈরি হতে পারে নতুন ধরনের প্রগ্রেস কার্ড। ফলে স্কুলের প্রচলিত রিপোর্ট কার্ডেও বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একজন পড়ুয়া কোন বিষয়ে কতটা এগিয়েছে, কোথায় তার উন্নতির প্রয়োজন—সেই ছবিটিও রিপোর্টে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।
পড়ুয়াদের শিক্ষার মান সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা পেতে বড় পরিসরে স্কুলভিত্তিক সমীক্ষার পরিকল্পনাও রয়েছে PARAKH-এর আওতায়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কোথায় সমস্যা রয়েছে এবং কোন জায়গায় আরও জোর দেওয়া দরকার, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে।

আরও পড়ুন : অফলাইনের দিন শেষ? সরকারি কর্মীদের ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনতে বড় পদক্ষেপ নবান্নের
নতুন ব্যবস্থায় পরীক্ষার প্রশ্নের ধরনেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। স্কুলের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার পাশাপাশি বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্রেও নতুন কাঠামো দেখা যেতে পারে। মুখস্থ করে উত্তর লেখার বদলে কোনও বিষয় পড়ুয়া কতটা বুঝেছে এবং বাস্তবে তা প্রয়োগ করতে পারছে কি না, প্রশ্ন তৈরির ক্ষেত্রে সেই বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। তবে কোন পরীক্ষা থেকে এই পদ্ধতি কার্যকর হবে, তা এখনও জানানো হয়নি। বিষয়টি চূড়ান্ত হলে সরকারি ভাবে তা জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এই নতুন মূল্যায়ন কাঠামো বাস্তবে স্কুলগুলিতে কত দ্রুত এবং কী ভাবে কার্যকর হয় সেটাই এখন দেখার।













