বাংলা হান্ট ডেস্ক : হাওড়া স্টেশন (Howrah Station) ও আশপাশের এলাকায় বর্ষার জল জমে যাওয়ার সমস্যা দীর্ঘদিনের। প্রবল বৃষ্টি হলেই কোথাও হাঁটুসমান জল, কোথাও আবার জলমগ্ন হয়ে পড়ে রেল চত্বরের একাধিক অংশ। এর জেরে সমস্যায় পড়েন নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারাও। এবার সেই দুর্ভোগ কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছে পূর্ব রেল এবং হাওড়া পুরনিগম। শুধু পাম্প বসিয়ে জল সরানো নয়, গোটা নিকাশি ব্যবস্থার খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করে স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
হাওড়া স্টেশন (Howrah Station) সংলগ্ন এলাকা নিয়ে পর্যালোচনা
রেল ও পুর প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভারী বৃষ্টির সময় কোথায় জল আটকে যাচ্ছে, কোন নিকাশি পথ পর্যাপ্ত নয় এবং দ্রুত জল বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোথায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে—তার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
পুরসভা এলাকার জমা জল কীভাবে রেল চত্বরে ঢুকে পড়ছে, সেই জল কোন পথে সরছে এবং কোথায় গিয়ে নিকাশি ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে—তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে LHS বা লিমিটেড হাইট সাবওয়েতে জল জমা, নিকাশি লাইনে প্রতিবন্ধকতা এবং অতিবৃষ্টির সময়ে বাড়তি জল দ্রুত সরিয়ে ফেলার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
সমস্যার প্রকৃত কারণ জানতে এবার যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শনে নামবেন রেল ও পুরসভার আধিকারিকরা। শুধু যে জায়গায় জল জমে সেখানেই নয়, জল আসার উৎস থেকে শুরু করে তার নিষ্কাশনের শেষ জায়গা পর্যন্ত পুরো পথটি চিহ্নিত করা হবে। প্রয়োজনে নিকাশি ব্যবস্থার শেষ প্রান্ত এবং হুগলি নদীতে জল পড়ার সম্ভাব্য আউটফলও পরীক্ষা করে দেখা হবে।
বর্তমানে যে পরিমাণ জল পাম্প করে বের করা সম্ভব, তা যথেষ্ট কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতেও জোর দিচ্ছে পূর্ব রেল। ইতিমধ্যেই হাওড়া ডিভিশনে অনলাইন স্বয়ংক্রিয় পাম্পিং মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ফলে পাম্পের কর্মক্ষমতা এবং বিভিন্ন এলাকার জলস্তর সম্পর্কে রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া যাবে। জল বাড়তে শুরু করলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। অতিরিক্ত বৃষ্টির জল সাময়িকভাবে ধরে রাখার জন্য এলাকার পুকুর ও ঝিলগুলিকে কাজে লাগানো যায় কি না, সেটিও ভাবনায় রয়েছে। কোথায় জল বেরনোর পথে বাধা তৈরি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করতে ড্রোনের সাহায্যে নজরদারির পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : শিয়ালদহ-বহরমপুর ডিভিশনে বড় বদল! যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে নতুন উদ্যোগ
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, “রেল ও পুর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার করে ভারী বৃষ্টির সময় হাওড়া স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকার জলাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রেলযাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দা—উভয়েই দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।” রেল, পুরসভা এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সমন্বয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারী বৃষ্টির সময় হাওড়া স্টেশন এলাকায় জল জমে যাত্রী দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।














