বাংলা হান্ট ডেস্ক : আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা (CM Health Insurance) কার্ডের যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। এখনও বহু মানুষের হাতে কার্ড এসে পৌঁছায়নি। তাদের আর হাসপাতালে গিয়ে ঝক্কি পোহাতে হবে না। সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধান করতে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, এনএফএসএ ডেটাবেসে নাম থাকা এবং আয়ুষ্মান ভারতের ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া চলতে থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে হবে। কার্ড তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। যাদের কোনরকম কার্ড নেই তাদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিনয়ের আওতায় কিভাবে আনা যায় তারও দিক নির্দেশ করে দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালেই মিলবে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবীমার ফর্ম (CM Health Insurance)
খাদ্যনিরাপত্তা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য কেন্দ্রের নির্ধারিত তালিকায় থাকা দরিদ্র পরিবারগুলির তথ্যই এনএফএসএ ডেটাবেসে রয়েছে। এই তালিকাভুক্ত কোনও ব্যক্তি আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধার যোগ্য হলেও তাঁর কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে যাতে চিকিৎসা আটকে না যায়, সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন নির্দেশিকায়।
হাসপাতালগুলিকে বলা হয়েছে, কোনও রোগীর আয়ুষ্মান ভারতের ই-কেওয়াইসি অসম্পূর্ণ থাকলে এনএইচএ পোর্টালের মাধ্যমে তাঁর তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। অর্থাৎ, কার্ড হাতে না আসা পর্যন্ত রোগীকে অপেক্ষা করিয়ে রাখা বা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ থাকছে না।
বর্তমানে রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারত—দুই প্রকল্পই চালু রয়েছে। তাই কোনও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলে প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে তিনি কোন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসাথীর আওতাভুক্ত কোনও রোগী হাসপাতালে এলে আগে পরীক্ষা করে দেখতে হবে তাঁর আয়ুষ্মান ভারত কার্ড রয়েছে কি না এবং তিনি ওই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না।
যদি আয়ুষ্মান কার্ড ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অধীনেই চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। আর আয়ুষ্মান ভারতের যোগ্যতা না থাকলে স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমেই চিকিৎসা করাতে হবে। ফলে একই রোগীর ক্ষেত্রে দুই প্রকল্প নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতিও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।রোগী ভর্তির আগে প্রযুক্তিগত যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও থাকছে নির্দিষ্ট নিয়ম। হাসপাতালকে স্বাস্থ্যসাথীর টিএমএস পোর্টালে আধার নম্বর দিয়ে প্রথমে তথ্য খুঁজে দেখতে হবে। আয়ুষ্মান পোর্টালে কোনও সমস্যা দেখা দিলে ‘ফেসিং ইস্যু’ অপশনে গিয়ে সমস্যার বিবরণ দিতে হবে ও প্রসিড টু স্বাস্থ্যসাথী করতে হবে।
স্বাস্থ্য দফতরের এই পদক্ষেপে বেসরকারি হাসপাতালগুলির মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিংহোমের সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে জানিয়েছেন, “সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল স্বাস্থ্যসাথী না আয়ুষ্মান ভারত কোন প্রকল্পে মিলবে চিকিৎসা, সরকারি এসওপি-র মাধ্যমে তা এখন অনেকটাই পরিষ্কার করে দেওয়া হল।”

আরও পড়ুন : বেতন ২০ হাজার টাকা হলেই দিতে হবে কর! কী বলছে নয়া প্রফেশনাল ট্যাক্স-এর নিয়ম?
দুই প্রকল্পের কোনও তালিকাতেই রোগীর নাম না থাকলে অবশ্য অন্য ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে রোগীকে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার ফর্ম পূরণ করাতে হবে। অর্থাৎ, স্বাস্থ্যসাথী বা আয়ুষ্মান—কোনও প্রকল্পেই নাম না থাকলেও চিকিৎসার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না।দুই প্রকল্পের আওতায় থাকা বিপুল সংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মটি সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।













