বাংলা হান্ট ডেস্ক : নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান ও তার জেরে বিপুল প্রাণহানির পর পাহাড়ি এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াংয়ে ভূমিধসের আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে বিশেষ ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নবান্ন। বিপদের সম্ভাবনা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইলেই পৌঁছে যাবে সতর্কবার্তা। ফলে ধস নামার আগেই নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন মানুষ।
আগাম সতর্কবার্তা দিতে পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের (West Bengal Government)
কোনও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সম্ভাবনা তৈরি হলে সেই এলাকার কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে থাকা মোবাইল ফোনগুলিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বেজে উঠবে। একই সঙ্গে ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠবে সতর্কবার্তা। সেখানে জানানো হবে, কোন এলাকায় এবং কতক্ষণের মধ্যে ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি বিপদের সময়ে সাধারণ মানুষকে কী পদক্ষেপ করতে হবে, সেই নির্দেশও দেওয়া হবে বার্তায়।
প্রশাসনের লক্ষ্য, দুর্ঘটনা ঘটার পর উদ্ধারকাজের বদলে আগেই মানুষকে সতর্ক করে প্রাণহানি কমানো। এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (জিএসআই) সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে জিএসআই-এর ‘মউ’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। কোনও এলাকার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, মাটির আর্দ্রতা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার আবহাওয়ার বিভিন্ন তথ্য একত্র করে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ‘রিয়েল টাইম’ ভূমিধসের পূর্বাভাস দেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
শুধু বর্তমান আবহাওয়ার তথ্যের উপর নির্ভর করা হবে না। অতীতে কোন কোন এলাকায় বারবার ধস নেমেছে, সেই তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগের রেকর্ডের ভিত্তিতে ধসপ্রবণ অঞ্চলগুলি চিহ্নিত করে রাখার পাশাপাশি পাহাড়ে আরও বেশি সংখ্যায় ‘ওয়েদার স্টেশন’ বসানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আবহাওয়ার পরিবর্তন আরও দ্রুত নজরে আনা সম্ভব হবে।
নবান্ন সূত্রে খবর, চলতি বছরেই ক্যাপ শ্যাচেট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেল ব্রডকাস্টিং ব্যবস্থাপনা চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে বিপর্যয়ের পূর্বাভাস থাকলে নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোন এলার্ম বাজানো এবং সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার পাশাপাশি বিপর্যয়ের পরে উদ্ধারকাজের পরিকাঠামোও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের।

আরও পড়ুন : পোস্ট অফিসের এই স্কিমে রাখুন টাকা, শুধু সুদেই আয় ৫০ লাখ
উল্লেখ্য, এই প্রযুক্তি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পাহাড়ে যাওয়া পর্যটকদের কাছেও বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কোনও জায়গায় যাওয়ার আগে সেই এলাকার ভূমিধসের পুরনো রেকর্ড সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। এমনকি যাত্রা শুরুর আগেই বোঝা সম্ভব হবে, ভূমিধসের আশঙ্কায় কোনও পাহাড়ি রাস্তা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না। ফলে আবহাওয়া ও পরিস্থিতির পূর্বাভাস হাতে নিয়ে পর্যটকরাও তাঁদের যাত্রাপথ সম্পর্কে আগেভাগে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।













