১,৩২২ কোটির ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ! সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে FIR দায়ের CBI-র

Published on:

Published on:

CBI files FIR against Subhash Chandra for loan fraud of Rs 1,322 crore
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: এসেল গ্রুপের চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্রকে (Subhash Chandra) ঘিরে আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। তাঁর বিরুদ্ধে ১,৩২২ কোটি টাকার একটি ব্যাঙ্ক ঋণ সংক্রান্ত প্রতারণার মামলা দায়ের করেছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)। এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্স লিমিটেডের অভিযোগের ভিত্তিতে সুভাষ চন্দ্র-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসভঙ্গ এবং ফৌজদারি অসদাচরণের মতো ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের সম্পদের পরিমাণ বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি দেখানো হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

১,৩২২ কোটির ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে সুভাষ চন্দ্রের (Subhash Chandra) বিরুদ্ধে FIR দায়ের CBI-র

অভিযোগের সূত্রে জানা গিয়েছে, এলআইসি হাউজিং ফাইন্যান্সের কাছ থেকে দুটি পৃথক ঋণ সুবিধায় মোট ৯৮০ কোটি টাকা মূল ঋণ নেওয়া হয়েছিল। সুদ ও অন্যান্য চার্জ যোগ হওয়ার পর সেই বকেয়া বেড়ে প্রায় ১,৩২২ কোটি টাকায় পৌঁছয়। এর মধ্যে প্রথম ঋণটি ছিল ৫০০ কোটি টাকার। ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে বসন্ত সাগর প্রপার্টিজ প্রাইভেট লিমিটেডকে ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল এবং প্যান ইন্ডিয়া ইনফ্রা প্রজেক্টস ছিল সহ-ঋণগ্রহীতা। ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ সুভাষ চন্দ্র (Subhash Chandra) ওই ঋণের জন্য ব্যক্তিগত গ্যারান্টিও দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ঋণটি ছিল ৪৮০ কোটি টাকার, যা ভাড়ার আয়ের ভিত্তিতে ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবার ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্সি সার্ভিসেসকে দেওয়া হয়। এই ক্ষেত্রেও স্পিরিট ইনফ্রা পাওয়ার মাল্টি ভেঞ্চারস সহ-ঋণগ্রহীতা ছিল এবং সুভাষ চন্দ্র ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে তৎপর আমেরিকা! ৩ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা পুতিনের

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে সুভাষ চন্দ্রের সম্পদের যে হিসাব ঋণদাতা সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল, তা। এলআইসিএইচএফএলের অভিযোগ, ওই নথিই ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। ৫০০ কোটি টাকার ঋণের ক্ষেত্রে ডিআইএম অ্যান্ড কোং ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ একটি শংসাপত্র দেয়। সেখানে সুভাষ চন্দ্রের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৯,১১৩ কোটি টাকা, অর্থাৎ ৬,১৯৭.৬২ মিলিয়ন ডলার দেখানো হয়েছিল। আবার ৪৮০ কোটি টাকার ঋণের জন্য এমপিজে অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ২০১৮ সালের ৬ জুলাই যে শংসাপত্র দেয়, তাতে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৪০,৫৬২ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়। এই বিপুল অঙ্কের সম্পদের হিসাবই এখন তদন্তের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

পরবর্তীতে দুটি ঋণ অ্যাকাউন্টই খেলাপি হয়ে যায় এবং বিষয়টি ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্সি কোড বা আইবিসির অধীনে চলে যায়। দেউলিয়াত্ব সমাধান প্রক্রিয়ার সময় সম্পদের হিসাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে বলে অভিযোগ। এলআইসিএইচএফএলের দাবি, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় সুভাষ চন্দ্র ঋণ নেওয়ার সময় সংস্থার কাছে তাঁর সম্পদের যে পরিমাণ প্রকাশ করা হয়েছিল, সেটি স্বীকার করতে অস্বীকার করেন। এখানেই সামনে আসে সম্পদের অঙ্ক নিয়ে বড় ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ। একদিকে ঋণের সময় নথিতে কয়েক দশক হাজার কোটি টাকার সম্পদের উল্লেখ, অন্যদিকে পরবর্তী সময়ে ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ—এই ফারাকই এখন তদন্তকারীদের নজরে।

আরও পড়ুন: পৃথিবীর মানচিত্রে বদল! রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় পাশ ‘ইকুয়াল আর্থ’, বড় করে দেখানো হল কোন মহাদেশকে?

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ২০২৪ সালের ঘোষণাকে ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময়ে সুভাষ চন্দ্র তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩১.৭৯ কোটি টাকা বলে ঘোষণা করেছিলেন। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য ছিল, ২০১৭-১৮ সালেও তাঁর সম্পদ কখনও ৪০,০০০ কোটি টাকার বেশি ছিল না। ফলে ঋণ নেওয়ার সময় দেওয়া সম্পদের শংসাপত্র এবং পরবর্তী ঘোষণার মধ্যে বিপুল পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এই নথিগুলিতে কীভাবে সম্পদের হিসাব তৈরি হয়েছিল, কারা সেই নথি প্রস্তুত বা অনুমোদন করেছিলেন এবং ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ভুল বা ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে সিবিআই। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থার ভূমিকা নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ হতে পারে। এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তেই পরিষ্কার হবে, এই বিপুল অঙ্কের ঋণ এবং সম্পদের হিসাবের পিছনে প্রকৃত ঘটনা কী (Subhash Chandra)।