বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কেন্দ্রীয় বঞ্চনাকে তোয়াক্কা না করে নিজের ভাঁড়ার থেকেই আবাস যোজনার (Awas Yojana) টাকা দিতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। প্রথম দফায় আবাসের মূল উপভোক্তা রয়েছেন ১২ লক্ষ। ইতিমধ্যেই প্রথম কিস্তির টাকা পাঠানো হয়েছে। সেই মত কিস্তির টাকা পেয়েছিলেন নদিয়ার (Nadia) বৃদ্ধ দম্পতি। শুরু হয়েছিল বাড়ি তৈরির প্রস্তুতি। এরই মধ্যে নির্দেশ এল আবাসের অর্থ ফেরাতে হবে।
আবাসের টাকা পেয়ে বিক্রি করেছিলেন টিনের বাড়ি-Awas Yojana
গোটা জীবনটাই টিনের চালের বাড়িতে কোনওভাবে বসবাস রঞ্জিত বিশ্বাস এবং সুচিত্রা বিশ্বাসের। আবাসের প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে সেই বাড়িটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার স্বর্ণখালির চক শ্যামনগর গ্রামের বৃদ্ধ দম্পতি। পাকা বাড়িতে থাকার স্বপ্ন সত্যি করতে ইট-সিমেন্ট কেনার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছিল। যখন বাড়ি তৈরি নিয়ে প্রস্তুতি তুঙ্গে সেই সময় বিডিও নোটিশ দিয়ে জানাল আবাসের অর্থ ফেরাতে হবে।
পেশায় বিড়ি শ্রমিক রঞ্জিত বিশ্বাস ও তার স্ত্রী আবাসে বাড়ি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। সেই মত অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল প্রথম কিস্তির টাকা। তবে
বিডিও নোটিস দিয়ে জানালেন ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য তারা টাকা পেয়েছেন, তাই অবিলম্বে সেই টাকা ফেরাতে হবে। যদিও বৃদ্ধ দম্পতির দাবি তারা বিজেপি করে বলেই এই হেনস্থা।
এদিকে বিডিও-র নোটিস পেতেই রাতের ঘুম উড়েছে ওই প্রবীণ দম্পতির। কারণ খোলা আকাশের নিচেই তাদের রাত কাটাতে হচ্ছে। আবাসে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেতেই শেষ জীবনটা পাকা বাড়িতে কাটাবে সেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন তারা। বাড়ি তৈরির সরঞ্জামও কিনে ফেলেছিলেন। পুরনো টিনের বাড়িটিও বিক্রি করে দিয়েছিলেন মাত্র চার হাজার টাকায়।
আরও পড়ুন: ফসিলস’এর চন্দ্রমৌলি আর নেই…,ঘর থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ, সুইসাইড নোট
সূত্রের খবর, বৃদ্ধের ছেলের পাকা বাড়ি রয়েছে। যদিও তারা মা-বাবার সাথে থাকেন না। আলাদা থাকেন। সেই সূত্রেই ভুল তথ্য দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে বৃদ্ধ দম্পতিকে। বিডিওর নির্দেশে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, কিস্তির টাকা ফেরত না দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এফআইআর পর্যন্ত করা হতে পারে। (Awas Yojana)