বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Recruitment Scam) দীর্ঘদিন ধরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই মামলায় নাম জড়িয়েছে একাধিক হেভিওয়েটের। গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) সহ আরও অনেকে। এবার এই মামলাতেই সামনে আসছে বড় খবর! সম্প্রতি বিচার ভবনের বিশেষ আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই (CBI)। সেখানেই পার্থকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে।
সিবিআই চার্জশিটে পার্থকে (Partha Chatterjee) নিয়ে কী বলা হয়েছে?
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ ঘনিষ্ঠ নির্মাণ ব্যবসায়ী সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ একজন মিডলম্যানের ফোন থেকে প্রায় শতাধিক কল রেকর্ডিং উদ্ধার হয়েছে। সেখান থেকেই ‘মাস্টারমাইন্ড’ পার্থর যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে বলে চার্জশিটে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দারা।
সন্তু বর্তমানে জেলবন্দি। সিবিআই জানিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে জেরা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সি সূত্রে খবর, প্রাথমিকের পাশাপাশি এসএসসি, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ, গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি সব ক্ষেত্রেই অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থর (Partha Chatterjee) সঙ্গে নির্মাণ ব্যবসায়ী সন্তুর ঘনিষ্ঠ যোগসূত্রের কথা জানা গিয়েছে। সম্প্রতি এই সন্তু, তৃণমূলের যুবনেতা (বর্তমানে বহিষ্কৃত) শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অয়ন শীলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
আরও পড়ুনঃ প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার ঢুকেছিল তাদের অ্যাকাউন্টে! আবাসের টাকা ফেরানোর নির্দেশ ঘিরে হৈচৈ
সিবিআই সূত্রে খবর, নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সূত্রে সম্প্রতি সন্তু ঘনিষ্ঠ একজন মিডলম্যানের ফোন থেকে ১৩৯টি কল রেকর্ডিং বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেগুলি যাচাই করে দেখা যায়, ২০১৪ সালের পর থেকে নিয়মিত তাঁর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ রাখতেন সন্তু। তাঁকে ফোন করে অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দিতেন। সেই সঙ্গেই নামের তালিকা ধরে টাকা পাঠানোর নির্দেশও দিতেন বলে খবর। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালেই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হয়েছিলেন পার্থ।
এই বিষয়ে সিবিআইয়ের এক কর্তা বলেন, ‘সন্তু ঘনিষ্ঠ ওই মিডলম্যানের ফোনের সকল তথ্য উদ্ধার হয়েছে। সম্প্রতি বিশেষ আদালতে আবেদন জানিয়ে সন্তুর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই মিডলম্যানের ফোন থেকে পাওয়া কণ্ঠস্বরের সঙ্গে এই কণ্ঠস্বর মিলিয়ে দেখার জন্য কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। ২০১৪ সালের পর থেকে পার্থ ঘনিষ্ঠ সন্তু নির্মাণ ব্যবসার পাশাপাশি নিয়োগ দুর্নীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন’।
গোয়েন্দাদের দাবি, বেহালার শকুন্তলা পার্কের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে পার্থ (Partha Chatterjee) ঘনিষ্ঠ সন্তু এবং ওই মিডলম্যানের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেখানে সন্তুর অ্যাকাউন্টে ৩ কোটি টাকার বেশি জমা পড়েছিল। নানান মিডলম্যান মারফৎ চাকরি বিক্রির টাকা সংশ্লিষ্ট দুই অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর থেকে নিজের ‘কাছের লোকদের’ মারফৎ মোটা টাকার পরিবর্তে অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার একটি চক্র গড়ে তোলেন পার্থ (Partha Chatterjee)। গোটা বাংলা জুড়ে এই চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। পার্থকে এই চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে দাবি করেছে সিবিআই। গোয়েন্দাদের দাবি, মিডলম্যানদের সূত্রে বেহালা নিবাসী সন্তুর অফিসে অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা পৌঁছে যেত। সন্তু ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ত চাকরি বিক্রির টাকা। পরবর্তীতে অযোগ্য প্রার্থীদের সেই তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হতো পার্থর অফিসে। সেখান থেকে তাঁদের চাকরির ব্যবস্থা করা হতো বলে দাবি করেছেন গোয়েন্দারা।