বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ব্যবহৃত ফর্ম-৬-এ পরিবর্তন নিয়ে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে নথি চাইল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই বিষয়টি সামনে আসে। একইসঙ্গে, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনারদের মধ্যে সমন্বয় ও সম্মতির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জ্ঞানেশ কুমার মামলায় কি বলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)?
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ছিল বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার নাম। মামলাকারীদের অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অন্য নির্বাচন কমিশনারদের মতামত বা সম্মতি ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলির নথি আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ফর্ম-৬। ভোটার তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ব্যবহৃত এই ফর্মের সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারীরা। পরিবর্তিত ৬ নং ফর্মটি কে বা কারা বদল করেছে, সেই বিষয়টিও নথি দেখে খতিয়ে দেখতে চায় শীর্ষ আদালত।
মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশ সিংয়ের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি এককভাবে নেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়ার আবেদনও করা হয়। তবে এই পর্যায়েই জ্ঞানেশ কুমারের কাজকর্মের উপর কোনও অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করতে রাজি হয়নি আদালত। আগে নথি দেখে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, তা যাচাই করতে চায় বেঞ্চ।
মামলায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও বিস্তৃত প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে সওয়াল করে বলেন, “এই মামলায় একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে নির্বাচন কমিশন যেভাবে কাজ করছে, তা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এই দেশে আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশে বড় হয়েছি। আজ তা আর নেই।”

আরও পড়ুন : দীর্ঘদিনের আটকে থাকা কাজে গতি! বীরভূমের জাতীয় সড়কে ৫০৮ কোটি বরাদ্দ কেন্দ্রের
এই মামলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশীকেও নোটিস দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। আদালত এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং ফর্ম-৬ পরিবর্তনের নেপথ্যে থাকা নথিপত্র খতিয়ে দেখতে চায়। পরবর্তী শুনানিতে আদালতে জমা পড়া নথি থেকে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলি কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে আরও স্পষ্টতা মিলতে পারে। তারপরই সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট।













