বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নির্বাচনের আগে হওয়া স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR এর বৈধতার উপর প্রশ্ন তুলে তোলপাড় গোটা দেশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানের কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ মিছিল করছে সিজেপি। এমতাবস্থায় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court of India) গিয়ে হতাশ হতে হল বিরোধী শিবিরকে। কারণ কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আদালতের বৈঠক সম্ভব নয়। ফলে ইন্ডি জোটের সাথে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মিশ্রর সাক্ষাৎ আপাতত অসম্ভব।
বিরোধীদের সাথে সাক্ষাৎ সম্ভব নয় জানালেন প্রধান বিচারপতি!
যেমনটা জানা যাচ্ছে, ইমেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কার্যালয় থেকে উত্তর এসেছে বিরোধীদের কাছে। সেখানে বলা হয়েছে, যে সমস্ত বিষয়ে বিরোধীরা আলোচনা করতে চাইছেন, সেই সমস্ত বিশয় ইতিমধ্যেই বিচারাধীন রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। তাছাড়া প্রশাসনিক স্তরের কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আদালতের সাক্ষাতের কোনো আইনানুগ অধিকার নেই।
একইসাথে উত্তরে জানানো হয়েছে, আদালতের কাজ হল আইনি পদ্ধতিতে যে সমস্ত আবেদন বা পিটিশন জমা পড়ছে সেগুলির সমস্ত পক্ষ ও প্রমাণ দেখে ও শুনে রায় প্রদান করা। এক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, দেশের শীর্ষ আদালত হিসাবে সুপ্রিম কোর্টের দরজাতেই লেখা রয়েছে যে, ‘সকলের জন্য ২৪ ঘন্টা খোলা’। তাছাড়া দেশের প্রতিটা নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য আদালত প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যের এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নতুন বেতন ব্যবস্থা! এল সোমেই রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ
প্রধান বিচারপতির থেকে এমন একটা বার্তা পাওয়া যে সোমবারের আন্দোলন ও বিক্ষোভ আরও জোরদার করে তুলবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিন সুপ্রিম কোর্টের দিকে মার্চ করার কর্মসূচি রয়েছে বিরোধী দলগুলির। এমনকি রাহুল গান্ধীও জানিয়েছেন, সোমবারের মার্চ নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য নয়। এটি আসলে সমস্ত ভারতবাসীর হয়ে প্রতিবাদ। মতি সরকারের নীতি থেকে শুরু করে নির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা ও ভোটচুরির মত বিষয়গুলিকে নিয়ে জবাবদিহি করানোর জন্যই এই জোট।
তবে শুধু একটি নয়, একাধিক দাবি রয়েছে বিরোধীদের। এই সমস্ত দাবি নিয়েই একটি স্বারকলিপি প্রদান করা হবে। মূলত তিনটি দাবি জানানো হচ্ছে। যার মধ্যে প্রথমটি হল, জ্ঞানের কুমার সহ বাকি দুই কমিশনারের পদত্যাগ। একইসাথে পূর্বে পাশ করা আইন বাতিল ও সাথে আইনিটি সুরক্ষা বা ইমিউনিটি প্রদান।
এছাড়া দ্বিতীয় দাবি হল, দ্রুত SIR পক্রিয়া স্থগিত করতে হবে ও যে ১কোটি ভোটারের নাম SIR এর কারণে লিস্ট থেকে চলে গিয়েছে তাদের নাম ফিরিয়ে দেওয়া। আর সমস্ত নির্বাচনে পুরোনো দিনের মত ব্যালট পেপার পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা। এখন অপেক্ষা কোন দিকে যায়, এই আন্দোলন।














