বাংলা হান্ট ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের পর বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, ডিজিটাল সার্ভিসের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান জিও প্ল্যাটফর্মস লিমিটেডের ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং তথা IPO (Reliance Jio IPO)-র সাবস্ক্রিপশন আগামী ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। এদিকে, এই IPO (Initial Public Offering) দেশের বৃহত্তম IPO হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বুধবার দাখিল করা রেড হিয়ারিং প্রস্পেক্টাস তথা RHP অনুযায়ী, এই IPO আগামী ২৩ অক্টোবর বন্ধ হবে এবং ১৯ অক্টোবর অ্যাঙ্কর ইনভেস্টর্স বিডিং সম্পন্ন হবে। এদিকে, সংস্থাটি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (Reliance Industries Ltd) তথা RIL-এর যোগ্য কর্মীদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত এবং যোগ্য শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২,৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত শেয়ার সংরক্ষিত রেখেছে। যেসব ব্যক্তি এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUFs) ৪ অক্টোবর পর্যন্ত RIL-এর পাবলিক ইকুইটি শেয়ারের মালিক, তারা প্রযোজ্য শর্তাবলী সাপেক্ষে শেয়ারহোল্ডার রিজার্ভেশন ক্যাটাগরির অধীনে আবেদন করার যোগ্য। জানিয়ে রাখি যে, রয়টার্স পূর্বে জানিয়েছিল যে, জিও প্ল্যাটফর্মস প্রায় ১০৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০.৩ লক্ষ কোটি টাকা) ভ্যালুয়েশনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং সম্ভাব্য প্রাইস ব্যান্ডের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রায় ৩০,২০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। এটি হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়ার ২০২৪ সালের IPO-র চেয়েও বড় হবে। যা বর্তমানে ভারতের বৃহত্তম পাবলিক ইস্যু।
২১ অক্টোবর খুলছে ভারতের সবথেকে বড় IPO (Reliance Jio IPO):
রিপোর্ট অনুসারে, প্রাইস ব্যান্ড ১,০৬৫ থেকে ১,১১৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও বিনিয়োগকারীরা চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করবেন। এই ভ্যালুয়েশনে, লিস্টিংয়ের পর অন্যতম মূল্যবান লিস্টেড সংস্থায় পরিণত হবে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী বর্তমান ১০.৩ লক্ষ কোটি টাকার ভ্যালুয়েশনে, জিও-র শেয়ার আনুমানিক ২০২৮ অর্থবর্ষের EV/EBITDA-র প্রায় ১২ গুণ দামে লেনদেন হবে। যেখানে ভারতী এয়ারটেলের ভারতীয় ব্যবসার (ইন্ডাস টাওয়ারস বাদে) ক্ষেত্রে এই অঙ্কটি প্রায় ১০.৩ গুণ।

রিলায়েন্স জিও-র IPO সংক্রান্ত তথ্য: উল্লেখ্য যে,জিও-র IPO একটি সম্পূর্ণ নতুন ইস্যু। যেখানে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষ থেকে কোনও অফার-ফর-সেল নেই। এর অর্থ হল, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং জিও-র কৌশলগত বিনিয়োগকারীরা; যার মধ্যে মেটা, গুগল, মুবাডালা এবং সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড অন্তর্ভুক্ত এই অফারে শেয়ার বিক্রি করবে বলে আশা করা হচ্ছে না। এর থেকে প্রাপ্ত অর্থ জিও প্ল্যাটফর্মসে যাবে। এর আগে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, IPO-তে জিও প্ল্যাটফর্মস-এ কিছু বিদ্যমান বিনিয়োগকারী তাদের অংশীদারিত্ব বাড়াতে পারেন। মেটার সহযোগী প্রতিষ্ঠান জাদু হোল্ডিংস ৯.৯৮ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে বৃহত্তম বহিরাগত বিনিয়োগকারী। এর পরেই রয়েছে গুগল ইন্টারন্যাশনাল। যার অংশীদারিত্ব ৭.৭৩ শতাংশ।
ড্রাফট পেপার থেকে দেখা গেছে যে, মোট প্রাপ্ত অর্থের ২৭,৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে রিলায়েন্স জিও ইনফোকমের ঋণ পরিশোধ বা অগ্রিম পরিশোধে ব্যবহার করা হবে এবং বাকি অর্থ সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে। জিও প্ল্যাটফর্মসের মধ্যে রয়েছে রিলায়েন্সের টেলিকম ও ডিজিটাল ব্যবসা। যার মধ্যে রয়েছে মোবাইল পরিষেবা, এন্টারটেইনমেন্ট, ফিক্সড ব্রডব্যান্ড, ক্লাউড, এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তি এবং এআই পরিষেবা। মার্চ মাস পর্যন্ত, সংস্থাটির গ্রাহক সংখ্যা ছিল প্রায় ৫২.৪ কোটি। রিপোর্ট, জিও আইপিও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের দরপত্র পেয়েছে। ফিডেলিটি, অ্যালিয়ান্স এবং ক্যাপিটাল গ্রুপের মতো গ্লোবাল বিনিয়োগকারীসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলি এই প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: পাক ক্রিকেটারদের সঙ্গে এক দলে শিখর ধাওয়ানের নাম! এই T20 লিগের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুমকি গব্বরের
এদিকে, ফাইলিংয়ের আগেই গ্রে মার্কেটে আগ্রহ বেড়েছে। জিও-র শেয়ার প্রায় ২১৮ টাকা বা ১৯ শতাংশ প্রিমিয়ামে লেনদেন হচ্ছিল। যার অর্থ শেয়ার প্রতি মূল্য হবে ১,৩৩৭ টাকা (এই হিসাবটি এই অনুমানের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে যে আইপিও প্রাইস ব্যান্ডের সর্বোচ্চ সীমা হবে ১,১১৯ টাকা)। জিও-কে শুধু একটি টেলিকম কোম্পানির চেয়েও বেশি কিছু হিসাবে বিবেচনা করে হচ্ছে। এর ব্যবসার মধ্যে রয়েছে মোবাইল পরিষেবা, বিনোদন, ফিক্সড ব্রডব্যান্ড, ক্লাউড, এন্টারটেনমেন্ট, এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স পরিষেবা।
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য, এই IPO তাদের সবচেয়ে মূল্যবান গ্রোথ ব্যবসার জন্য একটি স্বতন্ত্র মার্কেট প্রাইস তৈরি করতে পারে। জিও লিস্ট হলে, বিনিয়োগকারীরা এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে শুধু রিলায়েন্সের বৃহত্তর গ্রুপ স্ট্রাকচারের মাধ্যমেই নয়, বরং আলাদাভাবেও মূল্যায়ন করতে পারবে। যে স্ট্রাকচার তেল থেকে রাসায়নিক, খুচরো এবং নতুন শক্তির মতো ব্যবসাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বুধবার BSE-তে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম ০.৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,১৭৫.৯৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।














