বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের (India) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (Indian Defence System) আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যেই মোট ৪,১০৬ কোটি টাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর (Indian Air Force) জন্য জিএসএটি-৭সি যোগাযোগ উপগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বরুণাস্ত্র ভারী টর্পেডো। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নিরাপদ যোগাযোগ এবং সমুদ্রের গভীরে শত্রুপক্ষের ডুবোজাহাজ মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই দুই ব্যবস্থাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিদেশি প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমিয়ে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই চুক্তিগুলির অন্যতম লক্ষ্য।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বড় পদক্ষেপ ভারতের (India):
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক নিউ স্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেডের সঙ্গে ২,৫৬৩ কোটি টাকার চুক্তি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য জিএসএটি-৭সি যোগাযোগ উপগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে। এটি সাধারণ কোনও উপগ্রহ নয়, বরং সামরিক ক্ষেত্রে সুরক্ষিত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক যুদ্ধে বিমান, ড্রোন এবং অন্যান্য সামরিক প্ল্যাটফর্মের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা অবস্থাতেও বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখা গেলে অভিযান পরিচালনা ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সুবিধা হয়। জিএসএটি-৭সি সেই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: IIT-তে পড়াশোনার পর চাকরির সুযোগ ছেড়ে UPSC-র প্রস্তুতি! প্রথমবারেই সফল হয়ে IAS হলেন ক্ষিতিজ
অন্যদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ১,৫৪৩ কোটি টাকার বরুণাস্ত্র টর্পেডো সংক্রান্ত চুক্তি করা হয়েছে হায়দরাবাদের ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেডের (বিডিএল) সঙ্গে। এই ভারী টর্পেডোটি প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) অধীন নৌ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণাগার (এনএসটিএল) তৈরি করেছে। এটি জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য একটি দেশীয় ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী অস্ত্র, যা শত্রুপক্ষের সাবমেরিন শনাক্ত করে আঘাত হানার জন্য তৈরি। গভীর সমুদ্রের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত অগভীর জলেও এর কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রদত্ত প্রযুক্তিগত বিবরণ অনুযায়ী, বরুণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৪০ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ গতি ৪০ নট, অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ৭৪ কিলোমিটার। এই ক্ষমতা সমুদ্রের তলদেশে লুকিয়ে থাকা শত্রুপক্ষের ডুবোজাহাজ মোকাবিলায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে পারে।
বরুণাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর অ্যাকোস্টিক হোমিং প্রযুক্তি। শব্দতরঙ্গের সংকেত ব্যবহার করে এই ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত করতে এবং তার দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। ফলে সমুদ্রের নীচে চলাচলকারী শত্রু সাবমেরিনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হতে পারে। আধুনিক নৌযুদ্ধে ডুবোজাহাজ শনাক্ত করা এবং সেগুলিকে মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ। সেই পরিস্থিতিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এমন অস্ত্রের অন্তর্ভুক্তি ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার সুযোগ তৈরি করবে। তবে অস্ত্রটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে অভিযান পরিচালনার পরিস্থিতি এবং অন্যান্য সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের উপরও।

আরও পড়ুন: মিটারে এই আলো জ্বললে চড়চড় করে বাড়তে পারে ইলেকট্রিক বিল! কী করতে হবে জানুন
নয়াদিল্লিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব তথা অধিগ্রহণ বিভাগের মহাপরিচালক এ. আনবারাসুর উপস্থিতিতে চুক্তিগুলি চূড়ান্ত করা হয়। এই দুই চুক্তির মাধ্যমে একদিকে যেমন বিমানবাহিনীর সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে নৌবাহিনীর ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও স্পষ্ট হয়েছে। দেশীয় সংস্থার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি ও সংগ্রহের ফলে দেশের শিল্পক্ষেত্রও উৎসাহ পেতে পারে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। সব মিলিয়ে, জিএসএটি-৭সি এবং বরুণাস্ত্রকে ঘিরে এই ৪,১০৬ কোটি টাকার চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ ও দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টায় একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ (India)।














