বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সকল ভারতীয় নাগরিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হল আধার কার্ড। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প (Government Scheme) সহ নানা কাজে এটি দরকার হয়। তবে কোনও শিশুর আধার নম্বর না থাকলে বা আধার ভেরিফিকেশনে সমস্যা হলে শুধুমাত্র সেই কারণে তাঁকে পিএম কেয়ারস প্রকল্প (PM Cares Scheme) তথা পিএম কেয়ারস ফর চিলড্রেন থেকে বঞ্চিত করা যায় না। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অধীন স্কলারশিপ পাওয়া শিশুদের আধার ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত নতুন নিয়ম জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার।
পিএম কেয়ারস প্রকল্প নিয়ে বড় নির্দেশ কেন্দ্রের | (PM Cares Scheme)
গত ১৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে বিকল্প নথির মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করে স্কলারশিপ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘কুণালবাবুর সারদার টাকা থেকে তো করিনি’! রাস্তায় রামধনু রং নিয়ে সপাট জবাব অগ্নিমিত্রার
ভারতীয় সরকারি গেজেটে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তি ২০১৬ সালের আধার আইনের ৭ নম্বর ধারার অধীন জারি করা হয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী ও ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী আধারবিহীন উপভোক্তাদের জন্য আলাদা নথির তালিকা ঠিক করা হয়েছে।
পিএম কেয়ারস প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্কলারশিপ দেওয়া হয়। উপভোক্তা নির্বাচনের শর্ত অনুযায়ী যোগ্য শিশুরাই এই বৃত্তি পান।
কেন্দ্রের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী আধারবিহীন শিশুদের এনরোলমেন্ট আইডি দেওয়া আধার নথিভুক্তকরণ কেন্দ্রের দেওয়া স্বীকৃতিপত্র জমা করতে হবে। পাশাপাশি বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে বার্থ সার্টিফিকেট, স্বীকৃত বোর্ডের দশম বা দ্বাদশ শ্রেণির মার্কশিট বা শংসাপত্র ও ভারতীয় পাসপোর্ট গ্রহণ করা হবে।
পাশাপাশি অভিভাবকের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণ করতে ছবি সহ নির্দিষ্ট নথি জমা করতে হবে। সেই নথিগুলির মধ্যে রেশন কার্ড, এদেশের পাসপোর্ট, নির্দিষ্ট জাতিগত বা বসবাসের শংসাপত্র ও কিছু সরকারি পরিচয়পত্র আছে। এমনকি যেসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সেসব ক্ষেত্রে দত্তক নেওয়ার নির্দেশ বা আইনগত অভিভাবকত্বের প্রমাণও নেওয়া হবে। সেই সঙ্গেই বিদেশি নাগরিক ও রেজিস্টার্ড শিশু পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানে থাকা শিশুদের জন্যও নির্দিষ্ট নথি আছে।
এছাড়া ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী আধারবিহীন সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইউনিক ডিস্যাবিলিটি আইডি বা প্রতিবন্ধকতার শংসাপত্র সহ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকা নথিগুলি ব্যবহার করা যাবে। এই ধরণের সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রেও আধার নথিভুক্তির স্বীকৃতিপত্র লাগবে।

এছাড়া বায়োমেট্রিক তথ্যের সমস্যা বা অন্য কোনও কারণে যদি আধার ভেরিফিকেশন ব্যর্থ হয়, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্ভব ও অনুমোদিত ক্ষেত্রে ওটিপি বা অন্য বায়োমেট্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করার সুযোগ দিতে হবে। সেই পদ্ধতিও যদি কার্যকর না হয় তাহলে অফলাইন পদ্ধতিতে আধার নম্বরের সত্যতা যাচাই করে সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে আধার পেপারলেস অফলাইন ই-কেওয়াইসি নথি ও আধার সিকিওর কিউআর কোড ব্যবহার করা যাবে। এই পদ্ধতি সম্পর্কে আরও বেশ কিছু নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
মোদী সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আধার কার্ড না থাকলে বা ভেরিফিকেশনে প্রযুক্তিগত সমস্যা হলে পিএম কেয়ারস প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না উপভোক্তারা। অন্যান্য বিকল্প পদ্ধতির মাধ্যমে স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ তাঁদের কাছে থাকবে।














