বাংলা হান্ট ডেস্ক : দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের (INDIA Alliance) রাজনৈতিক সভা ঘিরে এবার ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ প্রকাশ্যে। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকাগুলিতে একদিনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল স্বাভাবিক কেনাবেচা। আর তার জেরেই কয়েক হাজার কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ী সংগঠনের। ইন্ডিয়া জোটের জনসভাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি নিয়ে এবার সরব হয়েছে চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিটিআই)। সংগঠনটির দাবি, রবিবারের কর্মসূচির কারণে দিল্লির অর্থনীতিতে একদিনেই প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ধাক্কা খেয়েছে।
ইন্ডিয়া জোটের (INDIA Alliance) সভায় ১১ হাজার কোটির ক্ষতি
দীপাবলির আগে দিল্লির বাজারগুলিতে সাধারণত কেনাকাটার চাপ থাকে। এই সময়েই ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে জনসভা করে ইন্ডিয়া জোট। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ওই কর্মসূচির দিন বড় অংশের বাজারে বেচাকেনা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। জনসভার সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে আগেই বিরোধী নেতাদের কাছে আবেদন জানিয়েছিল সিটিআই। সংগঠনের দাবি, রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক নেতাকে চিঠি পাঠিয়ে সভাটি দীপাবলির পরে আয়োজন করার অনুরোধ করা হয়েছিল। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, সভার জন্য যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও রাস্তা বন্ধ রাখা হলে ক্রেতা এবং পণ্যবাহী গাড়ি—দুয়েরই যাতায়াতে সমস্যা হবে। কিন্তু সেই অনুরোধ মানা হয়নি বলে অভিযোগ ব্যবসায়ী সংগঠনটির।
কোন কোন ক্ষেত্রে কতটা ক্ষতি হয়েছে, তার একটি হিসাবও সামনে এনেছে সিটিআই। তাদের দাবি, রামলীলা ময়দানকে কেন্দ্র করে পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে থাকা দিল্লির একাধিক বড় বাজারে দোকান খোলা রাখা সম্ভব হয়নি। কাশ্মীরী গেট থেকে চাঁদনি চক, সদর বাজার থেকে করোল বাগ—বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন বহু এলাকায় কেনাবেচা ব্যাহত হয়। তালিকায় রয়েছে মোরি গেট, চৌরি বাজার, খারি বাওলি, নয়া বাজার, আজমেরি গেট, দরিয়াগঞ্জ, পাহাড়গঞ্জ, কমলা মার্কেট, জামা মসজিদ, লাজপত রাই মার্কেট, তিলকবাজার, কনৌট প্লেস এবং গফ্ফর মার্কেটও।
সিটিআইয়ের হিসাব বলছে, এই অঞ্চলগুলিতে প্রায় তিন লক্ষ দোকান রয়েছে। তার মধ্যে আড়াই লক্ষ দোকান বন্ধ থাকায় খুচরো ও পাইকারি ব্যবসা মিলিয়ে আনুমানিক ৮,৮০০ কোটি টাকার লেনদেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রেও বড় সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি সংগঠনটির। রামলীলা ময়দান থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় পরিবহণ ও লজিস্টিক পরিষেবায় প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর বাইরে হাসপাতাল, হোটেল, রেস্তরাঁ এবং পর্যটন ব্যবসার ক্ষতির অঙ্ক প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে তারা। এই হিসাব ধরেই মোট লোকসানের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকা বলে দাবি সিটিআইয়ের। এখন ব্যবসায়ী মহলের প্রশ্ন, রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে যদি এত বড় আর্থিক ক্ষতি হয়ে থাকে, তবে তার দায়ভার কে নেবে?

আরও পড়ুন : কালীপুজোয় কলকাতার একাধিক রাস্তায় যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা! বিকল্প রুট জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি পুলিশের
অন্যদিকে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই অভিযোগের দায় কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনই জোর করে দোকান বন্ধ করিয়েছিল। ফলে দোকান বন্ধের নির্দেশ কে দিয়েছিল এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতির জন্য আসলে কার দায়—তা নিয়েই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে ব্যবসায়ীদের বিপুল লোকসানের অভিযোগ, অন্যদিকে বিরোধী নেতার পাল্টা দাবি—দিল্লির এই ঘটনা এখন রাজনৈতিক চাপানউতোরের বিষয়।












