বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্কঃ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে (New Zealand vs India) দুর্দান্ত জয় দিয়ে ওডিআই ফরম্যাটে অভিযান আরম্ভ করেছে ভারতীয় দল (Indian Cricket Team)। সাত বছর পর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কোনও ওডিআই ম্যাচ জিততে পেরেছে ভারতীয় দল। সাম্প্রতিক অতীতে ওডিআই ফরম্যাটে ভারতের জয়ের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করছিলেন ভারতীয় ব্যাটাররা। তবে এদিন মূলত বোলারদের দাপটেই সহজ জয় পেয়েছে ভারত। আর এই জয়ের দিনে ম্যাচের সেরার পুরস্কার পেয়েছেন নীল জার্সিতে এই ফরম্যাটে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা আনশুল কম্বোজ (Anshul Kamboj)।
সিরাজ, বুমরার মতো অভিজ্ঞ তারকাদের ছাড়াই আপাতত মাঠে নেমেছিল ভারতীয় দল। কিন্তু তাদের অভাব অনুভূত হয়নি এদিন। অকল্যান্ডের মাটিতে বল হাতে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন আনশুল কম্বোজের! তরুণ এই ভারতীয় পেসার সুশৃঙ্খল বোলিং করে কিউয়িদের চাপে ফেলে দিয়েছিলেন! নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ওডিআই ম্যাচে ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২ টি মেডেন সহ মাত্র ২২ রান খরচ করে ২ টি উইকেট তুলে নিয়েছেন চেন্নাই সুপার কিংস তারকা। তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত লেংথ নির্বাচন এবং বলের ওপর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ ভারতীয় দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

পুরুষদের ওডিআই ক্রিকেটে দশ ওভার বল করে আনশুল কম্বোজের ২২ রান খরচ করার ঘটনাটি একজন ভারতীয় পেসারের ক্ষেত্রে গত ২৩ বছরে সর্বনিম্ন। তার আগে ২০০৩ সালে এই অকল্যান্ডেই ভারতের তারকা পেসার জাভাগাল শ্রীনাথের ১৩ রান খরচের ঘটনাটি ভারতীয়দের মধ্যে ওডিআই ফরম্যাটে সেরা বোলিংয়ের নজির। ২০১৬ সালে যশপ্রীত বুমরাও একটি ওডিআই ম্যাচে ১০ ওভার বোলিং করে মাত্র ২২ রান খরচ করেছিলেন কিন্তু সেই ম্যাচটি ছিল জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। কম্বোজ সেই একই কাজ করেছেন ফর্মে থাকা ব্ল্যাক ক্যাপ্সদের বিরুদ্ধে।
ওডিআই ফরম্যাটে একজন ভারতীয় পেসারের সেরা ইকোনমি রেট (২০১০ সাল থেকে, পুরো ১০ ওভার বল করা হয়েছে এমন ক্ষেত্রে):
২.২- আনশুল কম্বোজ বনাম নিউজিল্যান্ড (২০২৬)*
২.২ – যশপ্রীত বুমরা বনাম জিম্বাবোয়ে (২০১৬)
২.৫ – ভুবনেশ্বর বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০১৪)
২.৬ – মোহিত শর্মা বনাম জিম্বাবোয়ে (২০১৩)
২.৭ – যশপ্রীত বুমরা বনাম শ্রীলঙ্কা (২০১৭)
আরও পড়ুন: ভারতের জয়ের দিনে প্রবল উজ্জ্বল কোহলি! গড়ে ফেললেন দুটি বিশ্বরেকর্ড
এদিন ম্যাচের সেরার পুরস্কার পাওয়ার পর সাক্ষাৎকারে এই তরুণ ভারতীয় পেসার বলেছেন, “আমি সবে শুরু করেছি। একটি ম্যাচ দিয়ে কারো কেরিয়ার নির্ধারিত হয় না। আমি বরাবরই নিজের কাজটা সঠিকভাবে করার চেষ্টা করি। বাইরের কথায় আমি কান দিই না। ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, আর তাতে ম্যাচে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় না। হ্যাঁ এখানে মাঠের আয়তন অন্যরকম ছিল, তবে পিচ থেকে সহায়তা পেলে এসব বিষয় খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি একজন অলরাউন্ডারের ভূমিকা পালন করছি দলে। যখন হাতে ব্যাট থাকবে তখন ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেবো, আর যখন বল থাকবে তখন বোলিংয়ে মনোযোগ দেবো।”












