বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মাঝে পেরিয়ে গিয়েছে এক বছরেরও বেশি সময়! এখনও পর্যন্ত জেসিবি সংস্থার ‘আর্থ মুভার’ অর্থাৎ মাটি কাটার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করতে পারল না পুলিশ। নিজেদের এই ব্যর্থতার কারণে আজ কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল তাদের। ভরা এজলাসে রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এদিন জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে হবে, তা না হলে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে।
CRPF নামানোর হুঁশিয়ারি দিল হাইকোর্ট (Calcutta High Court)
জানা যাচ্ছে, ব্যাঙ্ক থেকে টাকা ধার নিয়ে জেসিবি সংস্থার একটি ‘আর্থ মুভার’ কিনেছিলেন রামপুরহাট থানা এলাকার এক বাসিন্দা। অভিযোগ, সেই ঋণের কিস্তি শোধ করেননি ওই ব্যক্তি। এরপর ওই আর্থ মুভার বাজেয়াপ্ত করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন ব্যাঙ্ক কর্মীরা। এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত নাকি সেই গাড়িটির কোনও হদিশ মেলেনি।
শেষ পর্যন্ত মামলা গড়ায় হাইকোর্টে। উপায় না পেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর ২০২৩ সালে এই মামলার প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের সিঙ্গেল বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল,পুলিশকে ওই গাড়ি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় শুক্রবার হাইকোর্টে জাস্টিস ঘোষের চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়ল পুলিশ।
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে আজ এই মামলা উঠেছিল। মামলা চলাকালীন পুলিশের ভূমিকায় রীতিমতো মেজাজ হারান তিনি। পর্যবেক্ষণে জাস্টিস ঘোষ জানতে চান, ‘ওই আর্থ মুভার কোথায়? হয় ডিভিশন বেঞ্চে গিয়ে এই অর্ডার খারিজ করান, না হলে আগের নির্দেশ কার্যকর করুন। ওই গাড়ি বাজেয়াপ্ত করুন।’ এছাড়াও পুলিশের বিরুদ্ধে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে এদিন তিনি বলেছেন, ‘রানিগঞ্জ থানা ব্যর্থ হয়েছে। রামপুরহাট থেকে অভিযুক্তকে ধরা যাচ্ছে না কেন? এই প্রভাবশালী কে? তিনি কত বড় শক্তিমান? ওই গাড়ি কোথায় রয়েছে?’
হুঁশিয়ারি দিয়ে জাস্টিস ঘোষ এদিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশ মানতে হবে। তা না হলে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে দায়িত্ব দিয়ে দেব।’ এছাড়াও আগামী ৭দিনের মধ্যে ওই মেশিন বাজেয়াপ্ত করার সময় বেঁধে দিয়ে বিচারপতি জানিয়েছেন, আগামী ১০ মার্চের মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর না হলে, হাইকোর্টের নির্দেশে বাস্তবায়িত করার জন্য রাজ্যে সিআরপিএফ নামানো হবে।