‘স্তন চেপে ধরা ধর্ষণের চেষ্টাই নয়!’ হাইকোর্টের বিতর্কিত পর্যবেক্ষণে এবার বিরাট অ্যাকশন সুপ্রিম কোর্টের

Last Updated:

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কিছুদিন আগেই এক নাবালিকার যৌন নির্যাতনের মামলায় বিতর্কিত পর্যবেক্ষণ করে দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ওই মামলায় হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল,’স্তন স্পর্শ করা এবং পাজামা দড়ি ছিঁড়ে ফেলা ধর্ষণের চেষ্টা নয়!’ একজন বিচারকের এহেন পর্যবেক্ষণ ঘিরে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছিল তুমুল সমালোচনা। স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় নিজে থেকেই হস্তক্ষেপ করেছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিতর্কিত পর্যবেক্ষণ নিয়ে কি বলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)?

বুধবার ওই মামলার শুনানিতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের ওই বিতর্কিত পর্যবেক্ষণে স্থগিতাদেশ  দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। একইসাথে এলাহাবাদ হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণকে অসংবেদনশীল বলে উল্লেখ করেছে সর্বোচ্চ আদালত। জানা যাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহ-র ডিভিশন বেঞ্চ এদিন এই স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানিতে স্থগিতাদেশ জারি করেছেন।

প্রসঙ্গত গত ১৭ মার্চ এক নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা সংক্রান্ত একটি মামলায় ‘বিতর্কিত’ পর্যবেক্ষণ করে বিরাট শোরগোল ফেলে দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিতর্কিত অংশটি অপসারণের দাবি জানিয়ে আবেদন করা হয় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। এবার ওই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের তরফে নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে ভবিষ্যতে বিচারকরা যেন এই ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য আর না করেন। 

আরও পড়ুন: মদ্যপানের অভ্যাস গোপন করলে বাতিল হবে স্বাস্থ্যবিমা? বিরাট রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট

এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ মেনে নিতে পারেননি কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী। এই বিষয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) হস্তক্ষেপ দাবি করেছিলেন। আইনজীবিদের অধিকাংশও এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণের তীব্র নিন্দায় সরব হয়েছেন। তাঁরা সকলে জানিয়েছেন বিচারকদের আরও সংযত থাকা উচিত।

কী পর্যবেক্ষণ ছিল এলাহাবাদ হাইকোর্টের?
প্রসঙ্গত ২০২১ সালে উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জে ১১ বছরের এক নাবালিকার স্তন খামচে ধরা এবং পায়জামার ফিতে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে পবন এবং আকাশ নামে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। জানা যায় ওই দুই যুবক নাবালিকাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে ‘লিফট’ দেওয়ার কথা বলেছিল। এরপর তাঁর স্তন খামচে ধরে এবং পাজামার দড়ি খুলে দেয় তাঁরা। এখানেই শেষ নয় নাবালিকাকে জোর করে মাটিতে ফেলে টেনে, হিঁচড়ে একটি কালভার্টের নীচে নিয়ে যাওয়া চেষ্টা করা হয়! এমনকি রাস্তার মধ্যেই পায়জামা টেনে নীচে নামানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু নাবালিকার চিৎকার শুনে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। তখনই পালিয়ে যায় দুই যুবক।
Controversy over Delhi High Court verdict in a POCSO case
যৌন হেনস্থা করার চেষ্টা করার এই ঘটনা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি ছিল এলাহাবাদ হাই কোর্টে। শুনানি চলাকালীন, বিচারপতি রাম মনোহর নারায়ণ মিশ্র বলেছিলেন, ‘নির্যাতিতার বুকে হাত দেওয়া এবং পায়জামার দড়ি ছিঁড়ে ফেলা ধর্ষণের চেষ্টা নয়।’ এমনকী, উল্লেখ করা হয়, সাক্ষীদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়নি অভিযুক্তদের কাজে নির্যাতিতা নগ্ন হয়েছিল কিনা।  এমনকি অভিযুক্তরা নাবালিকার শরীরে বলপূর্বক যৌন নিপীড়ন কিংবা যৌন সঙ্গমের চেষ্টা করেছিল কি না সেকথাও জানা যায়নি। আদালতের এই রায় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে বিচারপতি জানান, মামলাটি মহিলার মর্যাদাহানির হলেও একে ধর্ষণের চেষ্টা বলা যায় না।
Anita Dutta

অনিতা দত্ত, বাংলা হান্টের কনটেন্ট রাইটার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। বিগত ৪ বছরের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা পেশার সাথে যুক্ত।

সম্পর্কিত খবর

X