বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গতকাল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একধাক্কায় চাকরি হারিয়েছেন ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী। আদালতের এক নির্দেশে বাতিল হয়েছে ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল। যার ফলে রাতারাতি কলমের এক আঁচড়ে অযোগ্য চাকরি প্রাপকদের সাথেই সাথেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের ভবিষ্যৎ। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেই সবাইকে ধৈর্য্য ধরতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বান্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেইসাথে বারণ করেছেন মানসিক চাপ নিতে। নবান্ন থেকে গতকাল বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে এই চাকরিহারাদের জন্য সমবেদনা জানিয়ে সরাসরি নাম করে অভিযোগ আনেন বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন আইনজীবী অভিজিৎ গাঙ্গুলির (Abhijit Ganguly) দিকে। বিজেপি সাংসদও তাঁকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন।
অভিজিৎ গাঙ্গুলিকে (Abhijit Ganguly) কি বলেছিলেন মমতা?
গতকাল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সামনে আসতেই বিরাট চটেছিলেন মমতা। এই ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলা প্রসঙ্গে বিজেপি সাংসদকে (Abhijit Ganguly) আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেছিলেন, ‘প্রথম হাইকোর্টে যিনি এই জাজমেন্ট দিয়েছিলেন,তিনি এখন জুডিশিয়ারি ছেড়ে বিজেপির সাংসদ হয়েছেন। সম্ভবত না সত্যিই হয়েছেন! সাম গাঙ্গুলি না ডাংগুলি! আমি ঠিক জানি না তাঁর আসল নামটা! পরে জেনে নেব!আজ তাঁরা কোন মুখে বড় বড় কথা বলেন? তাঁদের দায়বদ্ধতা নেই? দায়বদ্ধতা ছিল না? আমি বিশ্বাস করি, এটা বিজেপি করিয়েছে।’
মুখ্যমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যের পরেই সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছিলেন অভিজিৎ গাঙ্গুলীও (Abhijit Ganguly)। এ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘ওই ভদ্রমহিলা আসলে জোচ্চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে গিয়েছেন। ব্যাপক জোচ্চুরি করেছিলেন। ধরা পড়ে গেছেন। সুপ্রিম কোর্টও বলছে এখানে ব্যাপক দুর্নীতি আছে’। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেছেন, ‘আমি তো মনে করি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করা দরকার। আমাদের নেতা শুভেন্দু অধিকারীও বলেছেন। মমতা তাড়াতাড়ি পদত্যাগ করলে ভালো না হলে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাড়াতাড়ি তাঁকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে। এদের দুর্নীতির জন্য এত ছেলের সর্বনাশ হয়ে গেল। যারা সঠিকভাবে চাকরি পেয়েছিল তাদেরটাও গেল।’
আরও পড়ুন: ‘যাদের সর্বনাশ করলেন,তারা ছেড়ে দেবে না!’ হ্যাশট্যাগ ‘ছোড়’দি’ লিখে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট রুদ্রনীলের
মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে এরপরেই বিজেপি নেতার (Abhijit Ganguly) দাবি, ‘এটা আলাদা করা যেত। এটা আজও আলাদা করা যায়। ক্ষমতা পেলে আমরা করে দেখিয়ে দিতে পারি। এখানেই শেষ নয়, মমতাকে কটাক্ষ করে বিজেপি সাংসদের আরও সংযোজন, ‘এত বড় ধাক্কা এর আগে তিনি পাননি। তিনি বলতে চেয়েছিলেন কৌশল যেটা ছিল সাড়ে ৫ হাজার ৬ হাজারের মতো চাকরি কেনার বিষয়টি ধরতে পেরেছিলাম। আমার রায়ে তাদের বাদ দিয়েছিলাম।’
চাঞ্চল্যকর আরও এক তথ্য ফাঁস করে অভিজিৎ বাবু জানিয়েছেন, ‘কিছু প্রাক্তন জজ আছেন আরও কয়েকজন আছেন তাদের নাম বলতে চাই না এখন, তাঁরা পরামর্শ দিয়েছিলেন আপনি যারা ঠিকভাবে চাকরি পেয়েছেন আর টাকা দিয়ে পেয়েছেন তাদের জটটা ছাড়াবেন না। এতে বাধ্য় হবে সকলের চাকরি রেখে দিতে। কিন্তু তারা তো জানেন না যে কী পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে। আমাদের নেতা শুভেন্দু বাবু বলেছেন এদের এখনও ধরা যায়।’