বাংলা হান্ট ডেস্কঃ প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ড (Primary Recruitment Scam) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরগরম বাংলা। ইতিমধ্যেই এই মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন একাধিক হেভিওয়েট। এবার এই দুর্নীতি কাণ্ডে নাম জড়াল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিচারভবনে কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে সিবিআই (CBI)। সেখানেই উঠে এসেছে অভিষেকের নাম।
নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে (Primary Recruitment Scam) নয়া মোড়?
চার্জশিটে সিবিআই দাবি করেছে, ২০১৭ সালে ঘুষের টাকা দিতে বেহালায় কালীঘাটের কাকুর বাড়ি গিয়েছিলেন প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার অন্যতম দুই অভিযুক্ত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়, কুন্তল ঘোষ সহ আরও দু’জন ব্যক্তি। সেই সময় তাঁদের কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপিং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির দেওয়া ২৮ পাতার চার্জশিটে এক ঘণ্টারও অধিক দৈর্ঘ্যের ওই অডিও ক্লিপিংয়ের বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে (Primary Recruitment Scam)। সিবিআই দাবি করেছে, ওই অডিওয় জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম শোনা গিয়েছে। তবে সেই অভিষেক কে, তাঁর পরিচয় কী, সেসব বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি বলে খবর।
আরও পড়ুনঃ চিন্তা নেই, পাশে আছে রাজ্য! চাষিদের পাশে দাঁড়াতে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী
পার্থ, কালীঘাটের কাকু (Kalighater Kaku) সহ বাকি অনেকের ক্ষেত্রে নামের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিচয় চার্জশিটে উল্লেখ থাকলেও অভিষেকের ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি। তিনি কোনও ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নাকি শিক্ষা অথবা অন্য কোনও সরকারি দফতরের সঙ্গে জড়িত নাকি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত, সেসব বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। কেবলমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের উল্লেখই রয়েছে।
সিবিআই চার্জশিটে (Primary Recruitment Scam) দাবি করা হয়েছে, ওই অডিও ক্লিপিংয়ের কথোপকথনে কালীঘাটের কাকুকে বলতে শোনা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়া অবৈধ নিয়োগের জন্য অভিষেক ১৫ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। তবে ‘কাকু’ তখন সাফ জানিয়ে দেন, তিনি ওই টাকা দিতে অক্ষম। কারণে তার আগেই প্রার্থীপিছু সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়ে গিয়েছে।
সিবিআই চার্জশিট অনুযায়ী, সুজয়কৃষ্ণর এই কথা শুনে ওই চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ আটকে দিতে বলেন অভিষেক। ‘কাকু’ বলেছেন, অন্যথায় ওই সকল প্রার্থীদের গ্রেফতার করিয়ে দেওয়া হবে কিংবা দূরে কোথাও নিয়োগ করা হবে।
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতিতে দেওয়া এই চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, ওই অডিও ক্লিপ থেকেই সিবিআই জানতে পেরেছে পার্থর (Partha Chatterjee) মাধ্যমেই অবৈধ নিয়োগের বন্দোবস্ত করতেন শান্তনু, সুজয়কৃষ্ণ, কুন্তল। সিবিআইয়ের দাবি, ওই অডিও ক্লিপিং থেকেই তাঁরা জানতে পেরেছেন অবৈধ নিয়োগ নিয়ে অভিষেকের সঙ্গে পার্থর মনোমালিন্য চলছিল।
গোয়েন্দারা আরও জেনেছেন, কালীঘাটের কাকু, শান্তনু ও কুন্তল মিলে আরও ২০০০ চাকরিপ্রার্থীর থেকে নিয়োগের (Primary Recruitment Scam) নামে ১০০ কোটি টাকা তুলতে চাইছিলেন। অডিও ক্লিপ উদ্ধৃত করে সিবিআই চার্জশিটে দাবি করেছে, ওই টাকা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক ভট্টাচার্য এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ২০ কোটি টাকা করে দেওয়া হবে বলে ঠিক করা হয়। বাকি টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।