ফের লটারির ‘বলি’ এক যুবক! দায় নেবে Dear Lottery, রাজ্য? ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হতেই তোলপাড়

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শহর থেকে শহরতলি, রাজ্যের আনাচেকানাচে গজিয়ে উঠেছে লটারির (Lottery) নানান দোকান। এমন বহু মানুষ আছেন যারা কার্যত এর ‘নেশা’য় জর্জরিত। লটারির টিকিট কেটে লাখপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন অনেকে! এবার সেই ‘স্বপ্ন’ই কেড়ে নিল এক তরতাজা প্রাণ! লটারির নেশা থেকে বিপুল অঙ্কের ধার। বৃহস্পতিবার রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর সাত সকালে উদ্ধার হল শিব শংকর দাস (২৫) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ।

ফের লটারির (Lottery) ‘শিকার’ রাজ্যের এক যুবক!

লটারির টিকিট কেটে রাতারাতি ভাগ্য খুলেছে বহু মানুষের। সাধারণ মানুষ হয়ে উঠেছেন লাখপতি! সেই স্বপ্ন থেকেই এর জালে জড়িয়ে পড়েন অনেকে। অর্থলাভের আশায় বারংবার টিকিট কাটতে থাকেন, জড়িয়ে পড়েন দেনায়। শেষ অবধি তা শোধ করতে না পারলে হয় করুণ পরিণতি! শুক্রবার সকালে মালদার (Malda) হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ভিঙ্গল গ্রামে যেমন উদ্ধার হয়েছে শিব শংকর দাসের ঝুলন্ত দেহ। স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন লটারির নেশার কারণে বিপুল অঙ্কের ধার হয়ে গিয়েছিল। হয়তো সেই কারণেই আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

জানা যাচ্ছে, গতকাল রাত থেকে শিব শংকরের ফোন সুইচ অফ ছিল। বাড়ির লোক খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অবশেষে আজ সাত সকালে বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে একটি আম গাছ থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয়রা প্রথমে শিব শংকরের দেহ দেখতে পেয়েছিল। এরপর তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ সরকারি কর্মীদের জন্য খারাপ খবর! এবার একাধিক ভাতা বাতিল করতে পারে সরকার

মাত্র ৯ মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ওই যুবক। তাঁর এই অকালপ্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্ত্রী সহ সমগ্র পরিবারে। শিব শংকরের বাড়ি লোকের কথায়, এমনিতে কোনও সমস্যা ছিল না। তবে মা-বাবার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিব শংকরের লটারির (Lottery) আসক্তির কথা। যার জেরে বাজারে বড় অঙ্কের ধার হয়ে গিয়েছিল।

Lottery addiction man suicide

শিব শংকর একটি কম্পিউটারের দোকান চালাতেন। এর আগে টোটো কিনলেও পরে তা বিক্রি করে দেন। ধারদেনার কারণে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে অনুমান। তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। এদিকে মালদার এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজ্যের বুকে ডিয়ার লটারির রমরমা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

বাংলার বুকে ডিয়ার লটারির (Dear Lottery) ‘দাপট’ রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। পাড়ার মোড়ে মোড়ে দেখা যায় এর দোকান। এদিকে ২০১৯ সাল থেকে ‘লটারি কিং’ সান্টিয়াগো মার্টিনের ফিউচার গেমিং অ্যান্ড হোটেল সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড সংস্থার বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইনের অধীন মামলা চলছে। এর সূত্রে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ৬টি রাজ্যে অপারেশন চালিয়েছিল ইডি। চেন্নাই ও কোয়েম্বাটোরে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অফিসে হানা দেয় কেন্দ্রীয় এজেন্সি। বাজেয়াপ্ত করা হয় প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা। এই নিয়ে সেই সময় শোরগোল পড়লেও রাজ্যে ডিয়ার লটারির রমরমা কমেনি।

আরও পড়ুনঃ রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী! সেই ব্রাত্য বসুর নামে পড়ল ‘ওয়ান্টেড’ পোস্টার! তোলপাড় বাংলা

এখানেই শেষ নয়! সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে নির্বাচনী বন্ডকে অসাংবিধানিক আখ্যা দেওয়ার পর এসবিআই-কে যাবতীয় তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় দেখা গিয়েছিল, দেশের নানান রাজনৈতিক দলকে মোটা টাকা অনুদান দিয়েছে সান্তিয়াগোর সংস্থা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল (Trinamool Congress) পেয়েছিল ৫৪২ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি অনুদান পেয়েছিল তারাই।

একদিকে নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে রাজ্যের শাসকদলকে মোটা টাকা অনুদান, অন্যদিকে বাংলার বুকে ডিয়ার লটারির (Lottery) রমরমা! দুই কি নেহাতই কাকতালীয়? মালদার যুবকের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা সামনে আসতেই মাথাচাড়া দিয়েছে এমন নানান প্রশ্ন।

এদিকে বছর দুয়েক আগে ডিয়ার লটারি (Lottery) নিয়ে সরব হয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘ডিয়ার লটারি, মার্টিন লটারি পশ্চিমবঙ্গে আরেকটা বড় চিটফান্ড… পশ্চিমবঙ্গের গরিব মানুষ, বেকারদের বলছি এই লটারি কাটবেন না। এটা ভাইপোর ব্যবসা। বর্ধমানে হেড অফিস। কোটি কোটি টাকা তুলছে মদ থেকে আর ডিয়ার লটারি, মার্টিন লটারি থেকে। পশ্চিমবঙ্গে যা অবশিষ্ট আছে সেটাকে ধ্বংস করার জন্য মহান ভাইপোর নেতৃত্বে এই কাজগুলি চলছে’।

Sneha Paul

স্নেহা পাল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পড়াকালীন সাংবাদিকতা শুরু। বিগত ২ বছর ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত। রাজনীতি থেকে বিনোদন, ভাইরাল থেকে ভ্রমণ, সব ধরণের লেখাতেই সমান সাবলীল।

সম্পর্কিত খবর

X