বাংলা হান্ট ডেস্কঃ প্রতিপক্ষকে হারাতে সমবায় নির্বাচনে বিরোধীদের জোট বাঁধার ঘটনা নতুন নয়। এবার বীরভূমের নলহাটি কৃষি সমবায় নির্বাচন নিয়েও উঠল একই অভিযোগ। বলা হচ্ছে তৃণমূলকে হারাতে একজোট হয়েছে বিজেপি-সিপিএম। প্রসঙ্গত দীর্ঘ ২৫ বছর পর রাজ্যের (West Bengal) এই কৃষি সমবায় সমিতিতে নির্বাচন হতে চলেছে। আগামী ১৩ই এপ্রিল এই সমবায়ের নির্বাচন রয়েছে। তার আগেই এই নির্বাচনে আসন-সামঝোতার অভিযোগ উঠল বিজেপি-সিপিএমের (BJP-CPM ) মধ্যে।
রাজ্যের (West Bengal) সমবায় নির্বাচনের আগে জোট বাঁধছে বিজেপি-সিপিএম
জানা যাচ্ছে, রাজ্যের (West Bengal) নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের শীতলগ্রাম পঞ্চায়েতের কামালপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির ৬টি আসনের জন্য ৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। তৃণমূলের দাবি তার মধ্যে ৫টি বিজেপি এবং ২টিতে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সিপিএম সমর্থিত প্রার্থী। উল্লেখ্য এর আগে তেইশের পঞ্চায়েত নির্বাচনে একসাথে লড়াই করে শীতলগ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছিল বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেস জোট।
তৃণমূলের দাবি আসন্ন সমবায় নির্বাচনেও তারা সেই একই কাজ করছেন। যদিও সিপিএম-এর দাবি যারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন,তারা দলের কেউ নয়। অন্যদিকে সিপিএমের সঙ্গে জোট বাঁধার কথা স্বীকার করেননি বিজেপি জেলা সভাপতি।
জানা যাচ্ছে, এতদিন সমবায় সমিতির শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ে পরিচালন কমিটি গঠন করা হত। তবে এবার দীর্ঘ ২ দশকের বেশি সময় পর নির্বাচন হতে চলেছে। বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেস মিলিত ভাবে এই শীতল গ্রাম পঞ্চায়েতের সমবায় নির্বাচন পরিচালনা করছে। এই সমিতির মোট আসন সংখ্যা ছয়। কল্যাণপুর, বেড়াশিমূল, বারুনিঘাটা, কামালপুর, সাহেবনগর ও টিঠিডাঙা গ্রাম নিয়ে এই সমবায় গঠিত। সমবায়টি বেড়াশিমূল গ্রামে অবস্থিত।
আরও পড়ুন: হিন্দুরা কী করবে পুলিশের তা বলার অধিকার নেই! রামনবমীর আগে খোলা চ্যালেঞ্জ দিলীপের
আগামী মাসের এই সমবায় নির্বাচন ঘিরে এই মুহূর্তে প্রস্তুতি তুঙ্গে। তার আগে চলতি সপ্তাহের সোম ও মঙ্গলবার ছিল মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার দিন। সোমবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে ছ’টি আসনে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া হলেও মঙ্গলবার নাকি সিপিএম ও বিজেপি একসঙ্গে এসে মোট সাতটি মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছে। এছাড়াও জানা যাচ্ছে নির্দল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বেড়াশিমূল গ্রামের এক ব্যক্তি।
বলা হচ্ছে,এদিন বিজেপির পাঁচজন প্রার্থী এবং সিপিএমের পক্ষ থেকে দু’জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুই দলের প্রার্থীরা একসঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জানা যাচ্ছে,সাহেবনগর ও টিঠিডাঙা মুসলিম অধ্যুষিত হওয়ায় ওই দু’টি আসন নাকি সিপিএমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি গ্রামগুলিতে রয়েছে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি,তাই সেখান থেকেই এবার প্রার্থী দিয়েছে বিজেপি। প্রসঙ্গত গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জোট বেঁধে লড়াই করে, শীতলগ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছিল সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপি জোট। মনে করা হচ্ছে, এবার সমবায় নির্বাচনের আগেও একই পথ অনুসরণ করতে চলেছেন তাঁরা।