বাংলা হান্ট ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) তাওয়াং সেক্টরে ভারতীয় সেনা ও চিনা সৈন্যদের মধ্যে সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, LAC (Line of Actual Control)-তে তে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষের আবহে ভারতীয় সেনাবাহিনী ক্রমাগত তাদের শক্তি বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে, এএনআই নিউজ অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ভারতীয় সেনা এবার ব্যালিস্টিক মিসাইল “প্রলয়” (Pralay Ballistic Missile) কেনার কথা ভাবছে।
এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, প্রলয় ব্যালিস্টিক মিসাইল ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শত্রুর লক্ষ্যবস্তুকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে সক্ষম। এমতাবস্থায়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই মিসাইল কেনার প্রস্তাব অনেকটাই এগিয়েছে। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাত দিয়ে এএনআই জানিয়েছে যে, ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী যে প্রস্তাব পেশ করেছে তা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
২০২১-এর ডিসেম্বরে হয়েছিল সফল পরীক্ষা: প্রলয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটিকে গত বছরের ডিসেম্বরে পরপর দু’দিনে দু’বার সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তারপর থেকেই সেনাবাহিনী এটির অধিগ্রহণ এবং সামরিক বহরে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, প্রলয় মিসাইল DRDO দ্বারা তৈরি করা হয়েছে।
LAC-তে মোতায়েন করা যেতে পারে: প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অত্যাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে ইন্টারসেপ্টর মিসাইলও আক্রমণের মাধ্যমে ধ্বংস করতে পারবে না। এটি বাতাসে কিছু পরিসর পর্যন্ত নিজস্ব পথ পরিবর্তন করতে সক্ষম। পাশাপাশি, মোবাইল লঞ্চার থেকে প্রলয় মিসাইল উৎক্ষেপণ করা যায়। তথ্য অনুযায়ী, এটি ভারত-চিন সীমান্তে (LAC) মোতায়েন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর সাহায্যে উচ্চ উচ্চতায় চিনা লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করা সহজ হবে।
রকেট ফোর্স গঠনের প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে: বর্তমানে চিনা সৈন্যদের অনুপ্রবেশের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত LAC-তে সামরিক শক্তি বাড়াতে ব্যস্ত। পাশাপাশি, চিনের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী “রকেট ফোর্স” তৈরির কথাও ভাবছে। এমতাবস্থায়, রকেট ফোর্স গঠনের প্রস্তাব প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে বিবেচনাধীন রয়েছে। চলতি সপ্তাহের বৈঠকে এই প্রস্তাবটিও বিবেচনা করা হতে পারে। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, প্রয়াত সিডিএস জেনারেল বিপিন রাওয়াত এই রকেট বাহিনী গঠনের কথা ভেবেছিলেন। সম্প্রতি নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আর হরি কুমার এই তথ্য জানিয়েছেন।