বাংলাহান্ট ডেস্ক : বাংলাদেশে (Bangladesh) সরকার বদলের পরে ও পরিস্থিতি যেন কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না। দিকে দিকে বাড়ছে বিক্ষোভ। একদিকে যেমন ছাত্ররা রাজপথে নেমেছে, তেমন ভাবেই অন্যদিকে সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মীরা কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন। ফলে সোমবার রাত ১২ টা থেকে সারা বাংলাদেশে এক জরুরি পরিষেবা বন্ধ হওয়ার খবর সামনে এসেছে।
বাংলাদেশে (Bangladesh) এক জরুরী পরিষেবা বন্ধ হচ্ছে
জানা গিয়েছে, মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন প্রদান এবং অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে জটিলতা নিরসন না হওয়ায় ক্ষেপে উঠেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে (Bangladesh Railway) রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি। তবে, বাংলাদেশের রেলপথ মন্ত্রকের তরফে অবশ্য বিস্তারিত কোন তথ্য জানা যায় নি।
সূত্রের খবর, রানিং স্টাফেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে জোর কদমে চলছে আলোচনা। নিয়ম অনুযায়ী একজন রানিং স্টাফ (চালক, সহকারী চালক, গার্ড, টিকিট চেকার) তাঁর দায়িত্ব পালনের পর হেডকোয়ার্টারে ১২ ঘণ্টা এবং আউটার স্টেশনে ৮ ঘণ্টা বিশ্রামের সুযোগ পান। বাংলাদেশ রেলওয়ের স্বার্থে কোনো রানিং স্টাফ তাঁর বিশ্রামের সময়ে কাজ করলে তাঁকে বাড়তি ভাতা-সুবিধা দেওয়া হয়।
আরোও পড়ুন : রক্ষণশীল পরিবার থেকে বেঙ্গালুরুতে চাকরি, কাশ্মীরে ৮ যুবতীর স্বপ্নপূরণে সামিল ভারতীয় সেনার চিনার যুব কেন্দ্র
বাংলাদেশের রেলওয়েতে (Bangladesh Railway) এটি ‘মাইলেজ’ সুবিধা হিসেবে পরিচিত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তরফে চিঠি যায় রেল মন্ত্রণালয়ের কাছে। ওই চিঠিতে আনলিমিটেড মাইলেজ সুবিধা বাদ দিয়ে তা সর্বোচ্চ ৩০ কর্মদিবসের সমপরিমাণ করার কথা জানানো হয়।
আরোও পড়ুন : মহাকুম্ভ থেকে আর ফেরা হল না বাড়ি! রাস্তাতেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মৃত্যু গোটা পরিবারের!
এছাড়া রানিং স্টাফদের ভাতার ক্ষেত্রেও বদল আসে।এরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রানিং স্টাফরা। এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান টেলিফোনে বলেন, “আমরা ২৮ জানুয়ারির রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ট্রেন চালানো বন্ধ রাখব। ট্রেন চালান বন্ধের বিষয় থেকে সরে আসতে গেলে বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়কে স্পষ্টীকরণ চিঠি দিতে হবে।”
পাশাপাশি তাঁর সংযোজন, “এটা নতুন কোনো বিষয় নয়, এটা ১৬০ বছর ধরে চলে আসছে। ১৬০ বছর ধরে চলে আসা একটা নিয়ম হুট করে বন্ধ করে দেবে, এটা তো রেলের কোনো স্টাফ মেনে নিতে পারে না। আমরা ওনাদের বারবার সময় দিয়েছি, বারবার আন্দোলন করেছি, বারবার প্রত্যাহার করেছি। কিন্তু এবার আর কোনো কিছু করার সুযোগ নেই।”