রাজা ভেবে ভুল মূর্তিতে মালা পড়ালেন দিলীপ ঘোষ, তারপর যা হল…! চাঞ্চল্যকর ঘটনা বর্ধমানে!

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষকে (Dilip Ghosh) এবার বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্র থেকে দাঁড় করিয়েছে বিজেপি (BJP)। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার হতেই জোরকদমে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তিনি। রবিবাসরীয় সকালেও এর অন্যথা হয়নি। গতকাল প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। এরপর রাধাকৃষ্ণের মন্দিরে পুজো দিয়ে যোগ দেন চা-চর্চা কর্মসূচিতে। এরপরেই ঘটে যায় একটি ঘটনা!

গতকাল সোনাপট্টি এলাকায় চা-চর্চা কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন দিলীপ। এই এলাকাতেই একটি মূর্তিতে মালা পরানোর সময় বাঁধে গোলযোগ! রাজার মূর্তি (Statue) ভেবে অন্য একটি মূর্তিতে মালা পরিয়ে দেন বিজেপি প্রার্থী। এখানেই শেষ নয়! ভুল মূর্তিতে মালা পরিয়ে ‘মহারাজ উদয়চাঁদ অমর রহে’ বলে স্লোগানও দেন তিনি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য ভুল ভাঙে। নামফলকে চোখ পড়তেই সকলে বুঝতে পারেন দিলীপ ঘোষ যে মূর্তিতে মালা পরিয়ে ‘মহারাজ উদয়চাঁদ অমর রহে’র স্লোগান তুলেছিলেন, সেটি আদতে তাঁর মূর্তি নয়। বরং মূর্তিটি বনবিহারী কপূরের। এরপর খানিক বিস্ময়ের সুরে বিজেপি প্রার্থী জিজ্ঞেস করেন, ‘এখানে কপূর এল কোথা থেকে?’

আরও পড়ুনঃ ‘এই কারণেই রাজনীতি ছাড়তে চেয়েছিলাম’! ভোটের মুখেই বোমা ফাটালেন দেব!

জেলার ইতিহাসবিদদের থেকে জানা যাচ্ছে, গলসি নিবাসী বনবিহারী কপূর ছিলেন রাজপরিবারের জ্যোতিষী। রাজা আফতাবচাঁদ নিঃসন্তান হওয়ায় তিনি বনবিহারীর ছেলে বিজয়চাঁদকে দত্তক নেন। আফতাবচাঁদের মৃত্যুর পর নাবালক অবস্থাতেই রাজ্যাভিষেক হয় বিজয়চাঁদের। সেই সময় বনবিহারী রাজার এস্টেট অফিসার হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীকালে রাজবাড়ি চত্বরে তাঁর মূর্তি বসানো হয়। সম্পর্কে রাজা উদয়চাঁদের দাদু ছিলেন বনবিহারী কপূর। উদয়চাঁদের মূর্তি ভেবে তাঁর দাদুর মূর্তি মালা পরিয়ে দেন দিলীপ ঘোষ।

bjp candidate dilip ghosh statue controversy

বিজেপি প্রার্থীর ভুল মূর্তিতে মালা পরানোর বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। দলের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ‘মেদিনীপুর থেকে বর্ধমানে এসেছেন দিলীপবাবু। এখানে ভোটে দাঁড়িয়েছেন। তবে তিনি বর্ধমান, বর্ধমানের ইতিহাস সম্বন্ধে কিছু জানেন না। আর দিলীপবাবু কী বলবেন! গরুর দুধের মধ্যে যিনি সোনা পান, তিনি বনবিহারী কপূরকে বর্ধমানের রাজা বলে চালিয়ে দিতে পারেন’।

Sneha Paul
Sneha Paul

স্নেহা পাল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তরের পর সাংবাদিকতা শুরু। বিগত প্রায় ২ বছর ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর