‘প্রাথমিক নিয়োগেও একই পরিণতি আসন্ন’! SSC মামলার রায়দানের পরেই ‘সতর্ক’ করলেন তরুণজ্যোতি

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরগরম বাংলা। বৃহস্পতিবার ২০১৬ সালের এসএসসির (SSC Recruitment Scam) সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এরপরেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরব হলেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি (Tarunjyoti Tewari)। ২৫,৭৫৩ জনের চাকতি বাতিলের আবহেই প্রাথমিকের ঝুলে থাকা ৩২,০০০ চাকরি নিয়ে সতর্ক করলেন তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কী বললেন তরুণজ্যোতি (Tarunjyoti Tewari)?

এদিন নিজের সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন বিজেপি নেতা তথা এই আইনজীবী। ‘প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিঃ বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরির ক্ষেত্রে দুর্নীতি কতটা হয়েছে, তা সবাই জানে। সিঙ্গেল বেঞ্চ সরকারকে ভুল সংশোধনের সুযোগ দিয়েছিল, কিন্তু সরকার সে সুযোগ কাজে লাগানোর বদলে উপেক্ষা করেছে। উল্টে কিছু চাকরি প্রাপ্ত ব্যক্তি ও গ্রুপ নিজেদের স্বার্থে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে এবং যারা সত্য প্রকাশ করতে চেয়েছে, তাদের আক্রমণ করেছে‘।

তরুণজ্যোতি (Tarunjyoti Tewari) লেখেন, তাঁর কারোর প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই। তবে তিনি দাবি করেন, ‘প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিতদের দুটি গ্রুপ ছিল, কিন্তু কিছু গ্রুপ নেতাদের পাল্লায় পড়ে চাকরি প্রাপ্তরা কোটি কোটি টাকা নষ্ট করেছেন এবং এখনও করে চলেছেন’।

বিজেপি (BJP) নেতা লেখেন, তিনি যেদিন থেকে মামলা করেছেন সেদিন থেকে বলেছেন, এই প্যানেল টিকবে না। তাঁর মামলার কারণে গোটা প্যানেল বাতিল হয়েছে এবং বর্তমানে এটি ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন। ‘এই প্যানেল টিকবে না’, লিখেছেন তরুণজ্যোতি। প্রশিক্ষিত প্রার্থীদের সমস্যা হবে না, তবে প্যানেল বাতিল হবেই বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ‘কয়েকটা বদমায়েশকে মারতে গোটা গ্রাম জ্বালানো হল’! SSC মামলার রায়দানের পর ‘গল্প’ শোনালেন দেবাংশু

পদ্ম নেতা তথা এই আইনজীবী এদিন দাবি করেন, পর্ষদের কাছে এখনও সুযোগ আছে যোগ্যদের রেখে, অযোগ্যদের বাদ দিয়ে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার। এসএসসি মামলার রায় প্রাথমিকের ক্ষেত্রেও ‘অশনিসংকেত’ বলেন তিনি।

তরুণজ্যোতির (Tarunjyoti Tewari) কথায়, ‘হরাইজেন্টাল ও ভার্টিক্যাল সংরক্ষণ নিয়ে যারা উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছেন, তারা পর্ষদ ও সরকার ঘনিষ্ঠ আইনজীবীদের খেলায় পড়েছেন। পর্ষদ আজও প্যানেল প্রকাশ করেনি, কারণ সেখানে যে দুর্নীতি হয়েছে, তা বোঝার জন্য রকেট সায়েন্স লাগে না’।

Tarunjyoti Tewari

এই পোস্টে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ (Primary Recruitment Scam) দুর্নীতির কয়েকটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ দিনও তুলে ধরেছেন তরুণজ্যোতি। তিনি লেখেন, ‘সরকারি নিয়োগে সংরক্ষণ রোস্টার বাধ্যতামূলক ছিল, কিন্তু পর্ষদ তা মানেনি। অ্যাপ্টিটিউড টেস্টের নাম্বার প্রহসন- অনেক অযোগ্য ব্যক্তিকে বেশি নম্বর দিয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে, অথচ যে পরীক্ষা আদৌ হয়নি, সেটাই পরে প্রমাণিত হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডের সদস্যরা নিজেরাই স্বীকার করেছেন তারা কোনো অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট নেননি। চাকরিপ্রাপ্ত অনেকেই জানেন দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র, তবুও তারা পর্ষদকে প্রশ্ন না করে পর্ষদের দুর্নীতিকে আড়াল করতে চেয়েছেন’।

এতকিছুর পরেও কাদের অসুবিধা হবে না সেটাও জানিয়েছেন বিজেপি নেতা। তিনি দাবি করেন, প্রশিক্ষিত, এক্সেম্পটেড, প্রাক্তন সেনা সদস্য, প্রকৃত প্যারা টিচার ও শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের চাকরি থাকবে। কারণ, সংরক্ষিত ক্যাটাগরির জন্য বরাদ্দ সিটের তুলনায় আবেদনকারী কম ছিল। তবে জালিয়াতি করা প্যারা-টিচারদের রক্ষা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ‘এটা খুব সিরিয়াস ইস্যু’! মোথাবাড়ি মামলায় কেন্দ্রকে বড় নির্দেশ দিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট

তরুণজ্যোতি (Tarunjyoti Tewari) লেখেন, ‘প্যারা-টিচারদের নম্বর ভগ্নাংশে হতে পারে না। যদি কারও নম্বর ভগ্নাংশে থাকে, তবে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছে এবং পর্ষদের কাছে প্রতিবাদ করা উচিত ছিল’। 

দীর্ঘ পোস্টের শেষে বিজেপি নেতার আবেদন, সময় থাকতে নিজের ভুল শুধরে নিক পর্ষদ ও সরকার। একইসঙ্গে তাঁর আর্জি, ‘যারা আমাকে গালাগালি করছেন, তাদের পর্ষদের কাছে গিয়ে আন্দোলন করা উচিত, আমার পিছনে সময় নষ্ট না করে’। ‘চূড়ান্ত সতর্কতা’ হিসেবে তরুণজ্যোতি (Tarunjyoti Tewari) লেখেন, ‘৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি আপাতত ডিভিশন বেঞ্চের স্টে অর্ডারে টিকে আছে। এসএসসি-র মতো প্রাথমিক নিয়োগেও একই পরিণতি আসন্ন’।

Sneha Paul

স্নেহা পাল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পড়াকালীন সাংবাদিকতা শুরু। বিগত ২ বছর ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত। রাজনীতি থেকে বিনোদন, ভাইরাল থেকে ভ্রমণ, সব ধরণের লেখাতেই সমান সাবলীল।

সম্পর্কিত খবর

X