বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের সরকারি আবাসন বণ্টন ব্যবস্থা নিয়ে অখুশি কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। যে পদ্ধতি এবং নিয়মের মাধ্যমে সরকারি আবাসনগুলি বণ্টন করা হয়, তার মাধ্যমে নয়া আবেদনকারীদের আবাসন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এমনটাই বলেন উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম (Justice TS Sivagnanam)। বর্তমানে আবাসনে যারা রয়েছেন, তাঁরাই বংশ পরম্পরায় এই সুবিধা লাভ করবেন। আবাসন বন্টন ব্যবস্থার নিয়মই তাঁদের এই সুবিধা করে দিচ্ছে, পর্যবেক্ষণ আদালতের।
কী বললেন হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি?
জানা যাচ্ছে, মামলাকারীর আর্জি ছিল, হাউজিং স্টেটের ম্যানেজারদের হাউজিং স্টেটের সকল বাসিন্দা, আবেদনকারীদের নাম সহ বাকি তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিক আদালত। সেই সঙ্গেই এই তথ্য কম্পিউটারে আপলোড করতে হবে। যাতে যে কোনও মানুষ দরকার অনুযায়ী সবটা দেখতে পারেন।
জানা যাচ্ছে, বাংলার বুকে সরকারি আবাসন (State Government Apartments) নানান জেলায় রয়েছে। মোট সংখ্যা ৮৯টি। মোট ফ্ল্যাট রয়েছে ২০,২৮৫ টি। এর মধ্যে কলকাতা পুর অঞ্চলে ৪০টি সরকারি আবাসন রয়েছে এবং নানান জেলায় রয়েছে আরও ৪৯টি। এদিন বিচারপতি শিবজ্ঞানম আবেদনকারী অতীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং রাজ্যের কাছে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি আবাসন বণ্টনের নিয়ম জানতে চান।
জবাবে আবেদনকারীর তরফ থেকে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও নাগরিক এই আবাসনের জন্য আর্জি জানাতে পারেন। এক্ষেত্রে তাঁর আয়ের শংসাপত্রের ভিত্তিতে ফ্ল্যাট দেওয়া হয়। তবে আবেদনকারীর ২৫ কিমির মধ্যে যদি অন্য কোনও বাসস্থান থাকে, তাহলে হবে না। আয়ের স্তর অনুসারে সরকারি ফ্ল্যাট দেওয়া হয়। বিশেষ উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ক্ষেত্রে বণ্টন ব্যবস্থার সুযোগ আছে।
আরও পড়ুনঃ ছুটি বিতর্কে পুড়ল কপাল! মমতার ক্ষোভের পরেই আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ পুরসভার
একথা শোনার পর হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই নিয়মের বেড়াজালে সরকারের পক্ষে ওই আবাসনগুলি কখনওই খালি করা সম্ভব নয়। ওই আবাসনের আবাসিকরা বংশ পরম্পরায় ফ্ল্যাট দখল করে থাকবেন’। একথা শোনার পর সরকারি আইনজীবী বলেন, ‘ওই আবাসিকরা নূন্যতম ভাড়ার বিনিময়ে সেখানে থাকেন। যেহেতু অন্য জায়গায় থাকার সুযোগ না থাকা ব্যক্তিরা ওই ফ্ল্যাটে থাকার সুযোগ পান, তাই ওই ফ্ল্যাটগুলি খালি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা থাকে না’।
একথা শুনে জাস্টিস শিবজ্ঞানম জিজ্ঞেস করেন, ‘পরিবারের অন্য কোনও সদস্যের যদি অন্য কোথাও বাসস্থান থাকে, তাহলে সরকারের অবস্থান কী?’ এই বিষয়ে আবেদনকারী বলেন, কেউ যদি চিহ্নিত না করেন, তাহলে পরিবারের অন্য কোনও সদস্যের আর অন্য কোথাও বাসস্থান রয়েছে কিনা সেটা চিহ্নিত করার মতো পরিকাঠামো সরকারের নেই। প্রধান বিচারপতি পাল্টা জিজ্ঞেস করেন, যারা সরকারি আবাসনে বসবাস করেন, নির্দিষ্ট সময় অন্তর তাঁদের পুনরায় বসবাসের অনুমোদন দেওয়া হয় কিনা।
আরও পড়ুনঃ শোভনের উকিল কল্যাণকে ‘হুমকি’! রত্নাকে বড় নির্দেশ দিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট
মামলাকারী বলেন, পুনরায় অনুমোদনের ব্যবস্থার জন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর সরকারের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। তবে জেলার আবাসনগুলির অবস্থা খুবই খারাপ। কোথাও ভাড়া ৬০-৭০ টাকা, কোথাও ৩০০ টাকা। সেই কারণে সেগুলি ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয় না। নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সরকারের তরফ থেকে একটি ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সেখানে স্বচ্ছতার যথেষ্ট অভাব আছে।
এই বিষয়ে হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, রাজ্যে সরকারি আবাসন বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আবেদনকারী আদালতের সামনে যে তথ্য ও নথি তুলে ধরেছেন তাতে পরিষ্কার স্বচ্ছতা বজায়ের ক্ষেত্রে সরকারি আবাসন বিভাগকে আরও সতর্ক হতে হবে। দূরদূরান্ত থেকে সরকারি কর্মচারীদের আসতে হচ্ছে। তবে সরকারি আবাসন পাচ্ছেন না। উচ্চ আদালতেরও ১৫০টি ফ্ল্যাটের দরকার রয়েছে। এখনও আবাসন দফতরের তরফ থেকে কিছুই জানানো হয়নি। এক্ষেত্রে মামলাকারী যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে সাধুবাদ জানিয়েছেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। মামলাটির নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে।