বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে আগেই সরব হয়েছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তারপরেই পাল্টা অভিযোগে সরব হয় বিজেপি। তাঁদের দাবি ভোটার তালিকা থেকে নাকি বেছে বেছে হিন্দু ভোটারদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। তারই প্রতিবাদ মিছিল করতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিল বিজেপি (BJP)। আজ এই মামলায় বিজেপির পক্ষে রায় দিয়ে মিছিল করার অনুমতি দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তবে একই সাথে মিছিল করার জন্য একাধিক শর্ত বেঁধে দিয়েছেন তিনি। ঠিক করে দিয়েছেন মিছিলের যাত্রাপথ।
বিজেপির মিছিলে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিল হাইকোর্ট (Calcutta High Court)
জানা যাচ্ছে, আগে ঠিক ছিল এই মিছিল যাবে, কলেজ স্কোয়ার থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিস পর্যন্ত। কিন্তু আদালতের (Calcutta High Court) নির্দেশে এবার আর পছন্দের রুট পেলেন না বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রুট বদল করে হাইকোর্টের নির্দেশ, বিজেপির দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল শুরু করে যোগাযোগ ভবন হয়ে তা শেষ করতে হবে ওয়াই চ্যানেলে।
বুধবার জাস্টিস ঘোষ নির্দেশ দিয়েছেন বিকেল ৪টের সময় মিছিল শুরু করে সন্ধে ৬টায় শেষ করতে হবে। একইসাথে শর্ত বেঁধে দিয়ে বলা হয়েছে মিছিলে হাজারের বেশি লোক থাকতে পারবেন না। আর নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার জন্য বিজেপি নেতারা মাত্র ১০ জন প্রতিনিধি নিয়ে যেতে পারবেন বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন: বহাল থাকল হাইকোর্টের নির্দেশ! মদন তামাং হত্যার মামলায় জোর বিপাকে বিমল গুরুং
বিজেপির পক্ষে রায় দিলেও বিচারপতি এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মিছিলে কোনো রকম স্লোগান দেওয়া যাবে না কিংবা মাইকও বাজানো যাবে না। মিছিলে যারা যোগ দেবেন তাঁদের সবাইকে শব্দদূষণ মেনে মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া মিছিলের জন্য যাতে ট্রাফিকে কোনো সমস্যা না হয় সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
মামলার শুনানিতে এদিন মামলাকারীর আইনজীবী জানিয়েছিলেন কোনো পরীক্ষা না থাকা সত্ত্বেও তাঁদের মিছিল করা অনুমতি দেওয়া হয়নি। তখন বিচারপতি জানতে চান, ‘সন্ধে ছ’টায় গেলে কী অসুবিধা হবে? ওখানে কোন সিও নেই। আপনি কি অ্যাডিশনাল সিও-এর সঙ্গে দেখা করবেন?’ তারপরেই লোক সংখ্যা কমাতে বলেন বিচারপতি। এরপর রাজ্যের কাছে তিনি জানতে চান,’বিকেল ৪টের পর মিছিল করলে পুলিশের সমস্যা কোথায়? চারটের পর কে পরীক্ষা দিতে যাবে?’ জবাবে রাজ্যের তরফে বলা হয়, আইসি এসসি-র পরীক্ষা আছে। তাছাড়া অফিস ছুটির সময় সাধারণ মানুষের হয়রানি হতে পারে। তবে অন্য রাস্তা দিয়ে যাওয়া যেতে পারে।