বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিগত প্রায় ৭ বছর ধরে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় (Sovan Chatterjee) এবং রত্না চট্টোপাধ্যায়ের (Ratna Chatterjee) ডিভোর্স নিয়ে টানাপড়েন চলছে। সম্প্রতি সেই জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) অবধি। রত্নার আইনজীবী রঞ্জন বাচোয়াত দাবি করেন, এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী রয়েছেন, তাঁদের সাক্ষ্য গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এবার এই প্রেক্ষিতেই বড় নির্দেশ দিয়ে দিল আদালত।
শোভন-রত্নার ডিভোর্স মামলায় কী নির্দেশ দিল হাইকোর্ট (Calcutta High Court)?
২০১৭ সালে স্ত্রী রত্নার বিরুদ্ধে ডিভোর্স মামলা দায়ের করেন শোভন। এরপর দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে ৭ বছরের অধিক সময়। তবে এখনও টানাপড়েন চলছে। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র অভিযোগ করেন, এত বছর কেটে গেলেও দিনের পর দিন নিম্ন আদালতে শুনানির দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। মামলার শুনানিতে রত্না উপস্থিত না থাকায় মামলায় স্থগিতাদেশ দেয় আলিপুর আদালত।
অন্যদিকে রত্নার তরফ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়, নিম্ন আদালত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেনি। তাঁদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হোক। এই আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। তবে শুক্রবার সেই আর্জি খারিজ করে দেন বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুনঃ ‘২০০ জনের মৃত্যুর প্রমাণ কোথায়?’ নয়াদিল্লি পদপিষ্ট কাণ্ডে বিরাট সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের
এদিন শোভন-রত্নার ডিভোর্স (Sovan Ratna Divorce) মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। আলিপুর আদালতকে এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। সেই সঙ্গেই উচ্চ আদালতের কাছে রত্না আরও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের যে আবেদন জানিয়েছিলেন, সেটা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। অহেতুক এই মামলায় যাতে দেরি না হয়, নিম্ন আদালতকে সেদিকে নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
উল্লেখ্য, এই মামলায় শোভন চট্টোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করছিলেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে বছরের পর বছর ধরে মামলায় অনুপস্থিত থেকেছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। নিম্ন আদালতে তিনি কোনও প্রশ্নের উত্তর দেবেন না। ১০-১৫ মিনিট পরেই ক্লান্ত হয়ে যান। এদিকে তাঁর সমর্থকরা নিম্ন আদালতের বাইরে চেঁচামেচি করেন। স্ত্রী বলে ওর সকল অধিকার রয়েছে। আমার মক্কেলের কোনও অধিকার নেই? কেন বছরের পর বছর ধরে ঘোরাচ্ছেন?’
এরপর সাংবাদিক সম্মেলন করে কল্যাণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন রত্না। তৃণমূল সাংসদ তথা শোভনের আইনজীবী দ্বিচারিতা করেছেন, পাল্টি খেয়েছেন, এই ধরণের মন্তব্য করেন তিনি। শেষ অবধি নিজের এহেন মন্তব্যের জন্য আদালতে ক্ষমা চান তিনি (Calcutta High Court)। এদিন বিকেল ৪টের মধ্যে কল্যাণের কাছে লিখিত ক্ষমা চাওয়ার হলফনামার কপি রত্নাকে আদালতে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।