বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Scam) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তাল বাংলা। এই দুর্নীতিকাণ্ডে নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের (Trinamool Congress) একাধিক হেভিওয়েটের। তাঁদের মধ্যে কেউ জেলবন্দি, কেউ জামিনে মুক্ত। এই আবহে রাজ্যের শাসকদলের এক শিক্ষক নেতাকে বরখাস্ত করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বাম আমলে চাকরি পেয়েছিলেন তিনি।
তৃণমূলের কোন শিক্ষক নেতাকে বরখাস্ত করল হাইকোর্ট (Calcutta High Court)?
তৃণমূল কংগ্রেসের শিক্ষক সেলের নেতা হলেন শেখ সিরাজুল ইসলাম। শিবপুর দীনবন্ধু ইসস্টিটিউশনের শিক্ষক ছিলেন তিনি। বাম জমানায়, ২০০১ সালে এই চাকরি পেয়েছিলেন। এবার সেই সিরাজুলকেই বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালতের বিচারপতি রাজশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। আজ থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে, জানিয়েছে হাইকোর্ট।
তৃণমূলের শিক্ষক নেতা সিরাজুল কারচুপি করে চাকরি পেয়েছেন, এই মর্মে উচ্চ আদালতের (Calcutta High Court) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় সিরাজুলের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ দেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। পরবর্তীতে সিআইডি তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন সিরাজুল। কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা হল না।
আরও পড়ুনঃ ‘হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই, ছাব্বিশে BJP-কে চাই’! ভোটের আগেই বড় হুঙ্কার অর্জুন সিংয়ের
বুধবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। বিচারপতি মান্থার (Justice Rajasekhar Mantha) পর্যবেক্ষণ, ওই শিক্ষক নেতা দুর্নীতি করে চাকরি পেয়েছেন। ‘এমন ব্যক্তিকে কখনওই শিক্ষকের চাকরিতে রাখা যায় না। ওই শিক্ষকের নিয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি’, পর্যবেক্ষণ বিচারপতির।
চাকরিতে কারচুপির বিষয়ে এদিন সিআইডি তদন্তে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে বিচারপতি মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। সেই সঙ্গেই বেতন হিসেবে নেওয়া টাকা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে হাওড়ার ডিআই-কে পদক্ষেপ শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, ২০০১ সালেই সিরাজুলকে চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিগত প্রায় আড়াই দশক ধরে সেই নির্দেশের তোয়াক্কা না করে চাকরি করে যাচ্ছিলেন তিনি। এবার তাঁকে বরখাস্ত করার কড়া নির্দেশ দিল বিচারপতি মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। এদিন থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
জানা যাচ্ছে, সিরাজুলের বিরুদ্ধে যে ভুয়ো নিয়োগের মামলা চলছিল, সেটা চলবে (Calcutta High Court)। এসএসসির পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে। এই বিষয়ে সিঙ্গেল বেঞ্চে মূল মামলাকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, ২০০১ সালে নির্দেশের ভুল ব্যাখ্যা করে চাকরি নিয়েছিল সিরাজুল।