বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় এবার ভরা এজলাসে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল তথা ডিপিএসসি-কে। নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করা হল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। প্রশ্ন ওঠে, ‘আদালতের নির্দেশ না মানায় কেন জেলে পাঠানো হবে না?’ ডিপিএসসি-র চেয়ারম্যানের কাছে এদিন সেই ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা।
নির্দেশ না মানায় তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)
আদালত সূত্রে খবর এদিন, প্রাথমিকের নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি ছিল। ওই মামলা চলাকালীন মেজাজ হারান বিচারপতি। তারপরেই এমন মন্তব্য করেন তিনি। জাস্টিস মান্থা এদিন বলেছেন,‘আদালতের রায় না মানা দুর্ভাগ্যজনক।’ জানা যাচ্ছে, মালদহ ও উত্তর ২৪ পরগণার ডিপিএসসির চেয়ারম্যানের উদ্দেশে এদিন বিচারপতি স্পষ্ট বলেছেন, আদালতের (Calcutta High Court) নির্দেশ কার্যকর না করার জন্য কেন জেলে পাঠানো হবে না? তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। হলফনামা জমা দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি। জানা যাচ্ছে,আগামী শুক্রবার হলফনামা আকারে এই ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে। রীতিমতো বিরক্তি প্রকাশ করে এদিন বিচারপতির আরও সংযোজন, ‘আদালতের রায় ইচ্ছে করে না মানা আজকাল স্বভাব হয়ে গিয়েছে।’
প্রসঙ্গত ২০০৯ সালে অর্থাৎ বাম আমলে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়া হলেও তা বাতিল করা হয়েছিল। পরে আবার ২০১৪ সালে পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যের চারটি জেলায় বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে। মামলা গড়ায় হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। গত বছরের ২৬ এপ্রিল মালদহ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ বা ডিপিএসসি-র চেয়ারম্যানকে অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।
আরও পড়ুন: দোষী সাব্যস্ত রাজনীতিকদের সর্বোচ্চ কত দিনের সাজা হতে পারে? বিরাট দাবি করল কেন্দ্র
উচ্চ আদালতের (Calcutta High Court) সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় ‘কমিশনার অব স্কুল এডুকেশন’। এরপর মামলা ওঠে সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয় না ডিপিএসসি-র। কারণ সুপ্রিম কোর্ট-ও হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রাখে। কিন্তু তারপর মাঝে এতদিন কেটে গেলেও নিয়োগ হয়নি বলে অভিযোগ।
মামলাকারীরা আবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তারপরেই বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ডিপিএসসি-র চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন দু’সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু কোথায় কি! সেই নির্দেশ পালন না করে উল্টে কমিশন জানায়, ওই মামলাকারীরা নাকি ২০১০-সালের অ্যাডমিট কার্ড দিতে পারেননি। তাই তাঁদের চাকরি দেওয়া হবে না। একথা শুনেই প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হন বিচারপতি মান্থা। তারপরেই এদিন তিনি মন্তব্য করেন, ‘আদালতের নির্দেশ বারবার এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন চেয়ারম্যান। তাই এবার আদালতে তাঁকে ব্যাখ্যা দিতে হবে যে কেন তাঁকে দু-তিন মাসের জন্য জেলে পাঠানো হবে না?’