বাংলা হান্ট ডেস্কঃ স্কুল সার্ভিস কমিশন (School Service Commission) সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় সম্প্রতি প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee) গ্রেফতার করে ইডি (Enforcement Directorate)। কয়েকদিন পূর্বেই আদালতের নিকট পার্থের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়। তবে এক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে পরিষদীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে লঙ্ঘন করার অভিযোগ আনলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Biman Banerjee)। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হলেও তাঁকে কেন জানানো হয়নি, সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন বিমানবাবু।
বারুইপুর পশ্চিমের বিধায়ক তথা বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিধানসভাকে না জানিয়ে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে চলেছে। এই ঘটনা পরিষদীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে লঙ্ঘন করার চেষ্টা, যা মারাত্মক। বিধানসভার কোন সদস্যের বিরুদ্ধে যদি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে স্পিকারকে জানানো হয়। তবে তা হয়নি।” বিমানবাবুর এহেন মন্তব্যের জেরে ইতিমধ্যেই শোরগোল ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।
ইডি প্রসঙ্গে এদিন বিধানসভা স্পিকারের দাবি, “বিধানসভার কোনো বিধায়কের বিরুদ্ধে যদি চার্জশিট জমা দিতে হয়, তাহলে স্পিকারকে জানাতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তেমন কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
যদিও সিবিআই এবং ইডির মতো তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ এ প্রথম নয়, গত বছর নারদা মামলায় ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে সিবিআই। সেই সময় বিধানসভার স্পিকারের পরিবর্তে তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের থেকে অনুমতি নিয়েছিল গোয়েন্দা সংস্থা। একইভাবে সম্প্রতি স্কুল সার্ভিস কমিশন সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করার পর সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ১৭২ পাতার একটি চার্জশিট পেশ করে ইডি। এক্ষেত্রে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্ধকারে রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে এদিন সাফ মন্তব্য তৃণমূল বিধায়কের।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বিধানসভায় সিবিআই এবং ইডির মতো তদন্তকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে সরকারের তরফ থেকে নিন্দা প্রস্তাব নিয়ে আসা হয় আর বর্তমানে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের জেরে পরবর্তী সময় তৃণমূল সরকার বনাম তদন্তকারী সংস্থার সম্পর্কের আরো অবনতি হবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।