আর নেই চিন্তা! এবার LAC-তে বিরাজ করবে শান্তি, বড় পদক্ষেপ ভারত-চিনের, জানলে হবেন অবাক

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারত-চিন (China-India) সীমান্ত এখন অনেকটাই শান্ত রয়েছে। ঠিক এই আবহেই সম্পর্কের আরও উন্নতির চেষ্টা করছে ভারত এবং চিন। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই ইতিবাচক এবং গঠনমূলক পরিবেশে দুই দেশের মধ্যে ফের সম্পন্ন হয়েছে কূটনৈতিক আলোচনা। যেখানে কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপায় অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এদিকে, ইতিমধ্যেই এই আলোচনাটি বিশেষ প্রতিনিধি, অজিত ডোভাল এবং ওয়াং ইয়ের আরেকটি বৈঠকের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করেছে। যা ভারত এই বছরের শেষের দিকে আয়োজন করবে।

ভারত ও চিনের (China-India) মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা:

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বিদেশ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (পূর্ব এশিয়া) গৌরাঙ্গলাল দাসের নেতৃত্বে একটি দল LAC বরাবর পরিস্থিতির ব্যাপক পর্যালোচনা করেছে। ওই দলটি জোর দিয়েছিল যে সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মসৃণ বিকাশের জন্য সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। জানিয়ে রাখি যে, ভারত-চিন (China-India) সীমান্ত বিষয়ে পরামর্শ ও সমন্বয়ের জন্য ওয়ার্কিং মেকানিজম (WMCC)-এর ৩৩ তম বৈঠকের জন্য চলতি সপ্তাহে দলটি বেজিং গিয়েছিল।

China-India recent meeting update.

কী জানা গিয়েছে: চিন জানিয়েছে, “সম্ভাব্য দৃষ্টিকোণ” নিয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত সম্পন্ন। উভয় পক্ষ সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে “দৃঢ় ও কার্যকর” পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে। ভারতীয় রিডআউট অনুসারে, তারা আন্তঃসীমান্ত নদী এবং কৈলাস-মানসরোবর যাত্রা সহ আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা এবং বিনিময় দ্রুত পুনরুদ্ধারের বিষয়ে মতামত বিনিময় করেছে। তবে, ভারতীয় রিডআউটে সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

উল্লেখ্য যে, গত জানুয়ারিতে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরির বেজিং সফরের সময়ে ভারত “নীতিগতভাবে” উড়ান চালু করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। এদিকে, চিনও (China-India) সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করতে আগ্রহী। তবে ভারত এই বিষয়টিতে তাড়াহুড়ো করতে চায় না। যদিও, সরকারি সূত্র জানিয়েছে যে প্রযুক্তিগত আধিকারিকরা এই বিষয়টি পুনরুদ্ধারের জন্য একটি আপডেট ফ্রেমওয়ার্কে পৌঁছনোর জন্য কাজ করছেন।

আরও পড়ুন: শুধুমাত্র IPL থেকেই BCCI-র আয় হচ্ছে ১১,৭০০ কোটি! তবুও দিতে হয় না ট্যাক্স, কেন জানেন?

বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকের প্রস্তুতি: ভারত সরকার বলেছে যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বেজিংয়ে ভারত-চিন (China-India) সীমান্ত ইস্যুতে বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৩ তম বৈঠকের সময় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি কার্যকর করার জন্য এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য উভয় পক্ষই বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। দুই পক্ষ এই দিকে প্রাসঙ্গিক কূটনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থা বজায় রাখতে এবং শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছে। বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকের জন্য উভয় পক্ষই “পর্যাপ্ত প্রস্তুতি” নিতে কাজ করবে বলেও জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: PNB-র গ্রাহকেরা হয়ে যান সাবধান! এই কাজটি না করলেই বন্ধ হবে অ্যাকাউন্ট, সতর্ক করল ব্যাঙ্ক

LAC তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক…সম্পর্কের ওপর আস্থা: জানিয়ে রাখি যে, পূর্ব লাদাখে ২০২০ সালে সীমান্তে অচলাবস্থার ফলে ৫ বছরের ব্যবধানের পরে বিশেষ প্রতিনিধিদের ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বেজিংয়ে দেখা করার কথা ছিল। এদিকে, গত বছরের অক্টোবরে একটি চুক্তির মাধ্যমে এই বিষয়ে শেষ পর্যন্ত অচলাবস্থা অনেকটাই কেটে যায়। এই চুক্তির মধ্যে ডেপসাং এবং ডেমচোক নামক অবশিষ্ট অঞ্চলে সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদিকে, কয়েকদিন পর, ব্রিকস সম্মেলনের সময় কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে ৫ বছরের মধ্যে প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। মোদী চলতি মাসের শুরুর দিকে একটি পডকাস্টে বলেছিলেন যে জিনপিংয়ের সাথে তাঁর বৈঠকের জেরে সীমান্তে স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে এবং তিনি আশা করেন যে, ধীরে ধীরে অবশ্যই সুসম্পর্ক ফিরে আসবে।

Sayak Panda
Sayak Panda

সায়ক পন্ডা, মেদিনীপুর কলেজ (অটোনমাস) থেকে মাস কমিউনিকেশন এবং সাংবাদিকতার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স করার পর শুরু নিয়মিত লেখালেখি। ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর