চিনের অদ্ভুত কারনামা! সমুদ্রের ২,০০০ মিটার নিচে তৈরি হচ্ছে “স্পেস স্টেশন”, কি প্ল্যান জিনপিংয়ের?

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্ক: অদ্ভুত সব গবেষণা এবং আবিষ্কারের কারণে বারংবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে ভারতের পড়শি দেশ চিন (China)। সেই রেশ বজায় রেখেই এবার এমন একটি আপডেট সামনে এসেছে যেটি সম্পর্কে জানার পর চমকে যাবেন প্রত্যেকেই। মূলত, বছরের পর বছর বিতর্ক ও প্রযুক্তিগত পর্যালোচনার পর গভীর সমুদ্রে গবেষণা কেন্দ্র তথা রিসার্চ ফ্যাসিলিটির জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে চিন (China)। যেটিতে সমুদ্রের “স্পেস স্টেশন” হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

কি পরিকল্পনা করছে চিন (China):

এদিকে, চিনের এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ এটি সামুদ্রিক অনুসন্ধানকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করতে পারে। এর পাশাপাশি, এটি বিশ্বের অন্যতম সম্পদ সমৃদ্ধ অঞ্চলে চিনের ভূ-রাজনৈতিক সুবিধাও বাড়াতে পারে। এদিকে, কোল্ড সিপ ইকোসিস্টেম রিসার্চ ফ্যাসিলিটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ চিন সাগরের পৃষ্ঠের ২,০০০ মিটার (৬,৫৬০ ফুট) নিচে স্থাপিত হবে। অনেক দেশ এই এলাকার ওপর দাবি করেছে। তা সত্বেও, চিন (China) তার আগ্রাসী সামরিক কৌশল নিয়ে সবাইকে বিরক্ত করছে।

China is building a space station 2,000 meters below the sea.

২০৩০ সালে চালু হবে এই ফ্যাসিলিটি: জানিয়ে রাখি যে, এই ফ্যাসিলিটি এখনও পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে গভীর এবং প্রযুক্তিগতভাবে জটিল আন্ডারওয়াটার ইনস্টলেশন হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে ৬ জন বিজ্ঞানী থাকতে পারবেন। যাঁরা এক মাস পর্যন্ত মিশনের কাজ করতে পারবেন। এই ফ্যাসিলিটি রিচার্জ কমিউনিটির মধ্যে গভীর সমুদ্রের মহাকাশ স্টেশন হিসেবে পরিচিত। এটি ঠান্ডা সিপ ইকোসিস্টেম স্টাডি করতে ব্যবহার করা হবে। যেখানে মিথেন-সমৃদ্ধ হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট থেকে শুরু করে প্রাণের বৈচিত্র্য এবং মিথেন হাইড্রেটের বিশাল মজুত রয়েছে। যা জ্বলন্ত বরফ নামেও পরিচিত।

আরও পড়ুন: আর নয় অপেক্ষা! বিশ্বকে চমকে দিয়ে নয়া ইতিহাস গড়ার পথে ভারত, জানলে আপনিও হবেন গর্বিত

সমুদ্র থেকে গুপ্তধন বের করবে চিন: প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চিনা অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের সাউথ চায়না সি ইনস্টিটিউট অফ ওশেনোলজির গবেষক ইয়িন জিয়ানপিং এবং তাঁর সহকর্মীরা ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড আপগ্রেডিং টুডে জার্নালে এই স্টেশনটির নকশার বিশদ বিবরণ চলতি মাসে লিখেছেন। যেখানে মূল বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে লং টার্ম লাইভ সাপোর্ট সিস্টেম। যেটির তখনই প্রয়োজন হবে যখন বিজ্ঞানীদের মিথেন প্রবাহ, সেইসাথে পরিবেশগত পরিবর্তন এবং টেকটোনিক কার্যকলাপ ট্র্যাক করার জন্য একটি স্থায়ী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক তৈরি এবং পরিচালনা করতে হবে।

আরও পড়ুন: চুপ থাকবে না ইসলামাবাদ! মোদী-ট্রাম্পের বৈঠকের পরেই গর্জে উঠল পাকিস্তান, দিল বড় হুমকি

চিন পৃথিবীর অন্তঃস্থলে পৌঁছে যাবে: এদিকে, ইয়িন এবং তাঁর সহকর্মীরা লিখেছেন, এটির “নির্মাণ শীঘ্রই শুরু হবে।” তাঁরা এটাও জানান যে, মনুষ্যবিহীন সাবমেরিন, পৃষ্ঠের জাহাজ এবং সমুদ্রতলের মানমন্দিরের সাথে সামঞ্জস্য থেকে কাজ করার উদ্দেশ্য রয়েছে। যাতে স্টেশনটি একটি ফোর ডায়মেনশনাল” মনিটরিং গ্রিড তৈরি করা যায়। এই স্টেশনটি একটি বিস্তৃত ইনফ্রাস্ট্রাকচার ওয়েবের ভিত্তি তৈরি করবে। যা সমুদ্রের তলদেশে চিনের বিশাল ফাইবার-অপটিক নেটওয়ার্ক এবং ড্রিলিং জাহাজ মেংজিয়াং অন্তর্ভুক্ত করবে। যার লক্ষ্য হল পৃথিবীর ম্যান্টেল (অন্তঃস্থল) পর্যন্ত পৌঁছনো প্রথম জাহাজ হয়ে ওঠা।

Sayak Panda

সায়ক পন্ডা, মেদিনীপুর কলেজ (অটোনমাস) থেকে মাস কমিউনিকেশন এবং সাংবাদিকতার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স করার পর শুরু নিয়মিত লেখালেখি। ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর

X