টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

‘শুভেন্দু, রাজীবের থেকে মুখ্যমন্ত্রীই সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ।’ তমলুকে বিস্ফোরক সুজন চক্রবর্তী

বাংলাহান্ট ডেস্ক : বাংলার রাজ্য রাজনীতির এখন বেহাল দশা। এসএসসি দুর্নীতি, টেট কেলেঙ্কারি, গরু পাচার, কয়লা পাচারের মতো একাধিক মামলায় তৃণমূলের উপরমহলের একাধিক নেতামন্ত্রীকে মাঝেমাঝেই সিবিআই ডেকে পাঠায়। এরই মধ্যে পালা করে চলছে আক্রমণ, প্রতি-আক্রমণের ঝড়। এসবের মাঝেই এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েকে চ্যালেঞ্জ করে বসলেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।

সুজনবাবু বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করছি যদি সাহস থাকে, তাহলে তাঁর আমলে শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রী থাকাকালীন যে সব দুর্নীতি হয়েছে তা আপনি তদন্ত করান এবং পারলে জনসাধারণের সামনে তা প্ৰকাশ করুন।’ মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক শহরে মানিকতলা থেকে হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত বামফ্রন্টের একটি পদযাত্রা বের করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুজন চক্রবর্তী, অনাদী সাহু, জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি, পরিতোষ পট্টনায়ক,ইব্রাহিম আলি, অমৃত মাইতি সহ একাধিক বাম নেতা। পদযাত্রার শেষে রাজ্যের বেহাল দশা ও কেন্দ্রের দায়িত্ব নিয়ে একের পর এক তোপ দাগেন সুজনবাবু।

এদিনের সভা থেকে সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘মানিক ভট্টাচার্য দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। ঘুষ নিয়েছেন, ঘুষের ভাগও দিয়েছেন। কাকে ভাগ দিয়েছেন? যাঁরা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের সঙ্গে কারা কারা যুক্ত তাঁদের কোমরে দড়ি পরিয়ে হাজতে পাঠাতে হবে। এত সম্পত্তি মানিক বাবুদের হাতে এল কোথা থেকে, হিসেব দিক, এসব মানুষের টাকা।’ সিপিএম নেতার আরও বলেন ‘দিদিমণি বলছেন দাদামণি করেছেন, দাদামণি তখন সরকারে রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন শুভেন্দু অনেক দুর্নীতি করেছে। তাহলে, সরকারে থেকে দুর্নীতি করলে সেই দায়টা কার? সেই দায় মুখ্যমন্ত্রীর। শুভেন্দু, রাজীবদের থেকেও অনেক বড় দুর্নীতিবাজ মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।’

সুজন বাবু এরই সঙ্গে চ্যালেঞ্জও করেন মমতাকে। তিনি বলেন ‘আমি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করে বলছি যদি হিম্মত থাকে তাহলে তাঁর আমলে শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রী থাকাকালীন যে সব দুর্নীতি হয়েছে তা আপনি তদন্ত করান। যদি ক্ষমতা থাকে সর্ব সমক্ষে সেই তদন্তের রিপোর্ট সবায়ের সামনে প্ৰকাশ করুন। সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পর্ষদ ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছে। তা কার পয়সায় যাচ্ছে? মানুষের ট্যাক্সের টাকায় দুর্নীতিকে চাপা দিতে যাচ্ছে, এটা হয় কখনও? তৃণমূল সিঙ্গেলই করুক বা ডবলই করুক, ডিভিশনেই যাক, উডবার্নে গিয়েই লুকিয়ে থাক, ধরা ওদের পড়তেই হবে একদিন। ধরা পড়ে যেদিন কোমরে দড়ি দিয়ে নিয়ে জেলে যেতে হবে সেদিন হলে বাংলার লক্ষ লক্ষ ছাত্র যুবরা শান্তি পাবে।’

Related Articles

Back to top button