তাণ্ডব চালাল ‘হামুন’, অন্ধকারে ঢাকল বাংলাদেশ! ওপার বাংলায় ঘূর্ণিঝড়ের বলি একাধিক

বাংলাহান্ট ডেস্ক : সময়টা মঙ্গলবার রাত ১টা ১৫ মিনিট। ঘূর্ণিঝড় হামুন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে ল্যান্ডফল করে। তারপর থেকেই খেল দেখাতে শুরু করে এই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়টি। টানা দুই ঘণ্টার তাণ্ডবে কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে বহু এলাকা। তবে বর্তমানে শক্তি হারিয়ে এই ঘূর্ণিঝড় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এখন সেই নিম্নচাপ মিজোরামের দক্ষিণে অবস্থান করছে।

   

সেই নিম্নচাপের জেরেই ভারী বর্ষণ চলছে মিজোরামে। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের উপকূলে ১৩০ থেকে ১৪৫ কিমি প্রতি ঘণ্টায় ঝড়টি ল্যান্ডফল করলেও, পরে তার গতি কমে প্রতি ঘণ্টায় ৭৫ থেকে ৮৫ কিমি হয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯৫ কিমি। বলা বাহুল্য, কয়েকদিন ধরেই এই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আপডেট দিচ্ছিল মৌসম ভবন।

আরোও পড়ুন : টমেটো অতীত! এবার হু হু করে দাম বাড়ছে পিঁয়াজের, নতুন রেট শুনে চোখে জল জনতার

জানা গিয়েছে, চট্টগ্রাম জেলায় সকাল থেকেই বৃষ্টিপাত চলছে তবে সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে সমুদ্রে বেশ উত্তাল অবস্থা। সমুদ্র উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি হয়। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে দেওয়াল ও গাছ ভেঙে চাপা পড়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।আহতের সংখ্যা ১০ জনের বেশি।

screenshot 2023 10 26 091507 sixteen nine

এমনকি, মহেশখালি ও কুতুবদিয়ায় ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে হামুন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে মানুষদের সরিয়ে আনা হচ্ছে। সাড়ে তিনশো আশ্রয়কেন্দ্র, খাবার, পানীয় জল, শিশু খাদ্য ও গবাদিপশুদের খাবারের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রায় ৩০০ টি মেডিক্যাল টিম রাখা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সবরকম ব্যবস্থা করেছে। প্রসঙ্গত, হামুনের জেরে পুরো শহরজুড়ে গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ সংযোগ। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিভীষণ কান্তি দাশ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ এর প্রভাবে উদ্ভূত দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ আপদকালীন সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সহায়তা প্রদানের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে সর্বমোট সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা অর্থ ও ১৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

 

সম্পর্কিত খবর