” ছেলেকে ক্ষমা করুন বাবুল ” অনুরোধ বাবুলের চুলিমুঠি ধরে টানা দেবাঞ্জনের ক্যান্সার আক্রান্ত মা এর

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বৃহস্পতিবার যাদবপুর কান্ডের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ক্যাম্পাসে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গে পড়ুয়াদের হাতাহাতির দৃশ্য ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যম থেকে সামাজিক মাধ্যমে ঘোরাফেরা করছে বার বার। এবার টিভির পর্দায় ছেলের সঙ্গে বাবুল সুপ্রিয়র মারমুখী ছবি দেখে আতঙ্কিত এক ক্যান্সার আক্রান্ত মা। টিভির পর্দায় ছেলের সঙ্গে বাবুলের রনমূর্তি ছবি দেখে কর্কট রোগের যন্ত্রনা নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর কাছে ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার কাতর আর্জি জানালেন মা। তিনি আবেদন করে জানিয়েছেন,  ‘আমি হাতজোড় করে বাবুলদার কাছে ছেলের জন্য ক্ষমা চাইছি। উনি যেন ছেলেকে পুলিশে ধরিয়ে না দেন। ওর পড়াশোনা, জীবন যেন শেষ না হয়ে যায়। ওকে ক্ষমা করে দিন উনি। আপনাদের মাধ্যমেও আমি আবেদন করছি, এক জন ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের কথা ভেবে ছেলের এই অপরাধ যেন উনি ক্ষমা করে দেন। আমি শুনেছি, উনি বড় মনের মানুষ। বহু কষ্টে ছেলেটাকে বড় করেছি।’

unnamed file 1

বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্বিদ্যালয়ে এভিবিপির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হতেই বাবুল সুপ্রিয়কে ঘিরে ধরেন পড়ুয়ারা। ঘিরে বিক্ষোভও দেখান পড়ুায়ারা। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কার্যত মারপিটে জড়িয়ে পড়েন পড়ুয়ারা। বাবুল সুপ্রিয়কে কিল, চড় মারার অভিযোগ ওঠে। অপরদিক থেকে পড়ুদেরও মারধরের অভিযোগ ওঠে। আর সেই হাতাহাতির ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেই ছবি দেখেই আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন দেবাঞ্জন বর্মনের মা। দেবাঞ্জন বর্মনের বাবা পেশায় স্কুল শিক্ষক। মা তিন বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন। বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল বয়েস স্কুলের ছাত্র ছিল দেবাঞ্জন। মেধাবী না হলেও সমস্যায় কখনও জড়িয়ে পড়েননি সে। জানিয়েছেন স্কুলের শিক্ষকরা।

ইতিমধ্যেই বর্ধমান টাউন স্কুলের পড়ুয়া দেবাঞ্জনের স্কুলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পুলিশ ফোন করছে। এবং দেবাঞ্জনের খোঁজ চাওয়া হয়েছে। এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কার্যত নিরব শিক্ষকরা। তবে এদিন লিখিত একটি বক্তব্য জানিয়েছেন দেবাঞ্জন, তিনি লিখেছেন,   ‘আমি অসমে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এনআরসি-র জেরে ১৯ লক্ষ মানুষকে রাষ্ট্রহীন করে দেওয়ার চক্রান্ত এবং একই প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি প্রক্রিয়া চালু করার মধ্য দিয়ে কয়েক কোটি মানুষকে রাষ্ট্রহীন করার যে চক্রান্ত, তার বিরুদ্ধে কিছু প্রশ্ন আমি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দিকে ছুড়ে দিই।’ কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ছেড়ে বাবুলের সাঙ্গপাঙ্গরা নাকি তাঁদের ওপর চড়াও হয়। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে তাঁর ও তাঁর বাবার নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা নিয়ে ক্ষুব্ধ বলে জানান সে।

 

 

সম্পর্কিত খবর