বাংলাহান্ট ডেস্ক : ঘোষণা হয়েছিল আগেই। এবার বাস্তবায়িত হল খাতায়-কলমে। ২ এপ্রিল থেকে (ভারতে তখন মাঝ রাত) ভারতের (India) উপর ২৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয়বারের জন্য প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, আমেরিকান পণ্যের উপর যে দেশ যত পরিমাণ শুল্ক চাপাবে, তার পাল্টা সেই দেশের পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক চাপানো হবে।
ধাক্কা খাবে ভারতের (India) এইসব সেক্টর
এদিন ভারতের পাশাপাশি চিনা দ্রব্যের উপর ৩৪% আমদানি শুল্ক লাগু করল ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেন থেকে ট্রাম্প (Donald Trump) এদিন জানান, ‘ আজ আমেরিকার বাণিজ্যিক মুক্তি দিবস। ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে ২ এপ্রিল, ২০২৫। আজকের দিনটিতেই পুনর্জন্ম হল আমেরিকার বাণিজ্যের।’
আরও পড়ুন : ‘সম্পূর্ণ দায়ভার মুখ্যমন্ত্রীর’! ২৬,০০০ চাকরি বাতিল হতেই মমতাকে গ্রেফতারির দাবি শুভেন্দুর
এদিনের বক্তব্যে ভারতের (India) প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ অন্যান্য দেশের মোটরসাইকেলের উপর আমেরিকা ২.৪% শুল্ক আরোপ করে। থাইল্যান্ড এবং অন্যান্য দেশগুলি সেখানে ৬০% শুল্ক আরোপ করে বসে আছে। ভারত ৭০ শতাংশ, ভিয়েতনাম ৭৫ শতাংশ এবং অন্যান্যরা আরও বেশি হারে শুল্ক আরোপ করে মোটরসাইকেলের উপর।’
আরও পড়ুন : তিন খানের মিলিত সম্পত্তিকেও টেক্কা দেবে, ফোর্বসের বিচারে ইনিই বলিউডের ধনীতম ব্যক্তি!
পরিবর্তিত ট্যারিফ (Tariff) চার্ট প্রকাশের পর এদিন ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ খুব খুব কঠিন কাজ ছিল ভারতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমার খুব ভালো বন্ধু। তবে আমি তাঁকে বলেছিলাম মার্কিন পণ্যের উপর ভারতের অতিরিক্ত শুল্ক মোটেও ন্যায্য নয়। আমাদের থেকে ৫২% শুল্ক নেয় ভারত। তাই ভারতের উপর ২৬ শতাংশ শুল্ক চাপাচ্ছি আমরা।’
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক বৃদ্ধির ফলে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে দেশের কৃষি, রাসায়নিক, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং অটো মোবাইল সেক্টরে। আমদানি ও রফতানি শুল্কের পার্থক্য বৃদ্ধি পেলে প্রভাব পড়বে বাজারে। এক রপ্তানিকারকের কথায়, যত বেশি শুল্ক পার্থক্য থাকবে, তত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র।
তবে ওষুধ রফতানির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফকে। সান ফার্মা ( ৩৩%), ডঃ রেড্ডি’স ল্যাবরেটরিজ (৪৮.৫%) এবং অরবিন্দ ফার্মা (৪৮.৩%)- এর মতো ভারতীয় ড্রাগস প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি অনেকটাই রেহাই পাবে। পাশাপাশি ইস্পাত, তামা, সোনার মুদ্রা, শক্তি এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট খনিজ পদার্থকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে নয়া শুল্ক নীতি থেকে।