‘আমার অফিসে তল্লাশি’! এবার ED-র বিরুদ্ধে বিরাট পদক্ষেপ অভিষেকের

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বর্তমানে চর্চায় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস। সম্প্রতি রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সূত্র ধরে উঠে আসে এই সংস্থার নাম। আর সেই নামেই এখন তোলপাড় রাজ্য। কিছুদিন আগে শিক্ষক কেলেঙ্কারির অভিযোগে জেলবন্দি কালীঘাটের কাকু (Kalighater Kaku) একাধিক ঠিকানায় একযোগ হানা দিয়েছিল ইডি। সেই সময় গোয়েন্দারা পৌঁছে যায় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের (Leaps and Bounds) অফিসেও।

রাতভর তল্লাশি চালানোর পর প্রচুর নথি, ১টি হার্ড ডিস্ক ও ১টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে চলে যান ইডি (ED) আধিকারিকরা। এবার সেই নিয়েই ইডির বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ। ইডি বেআইনিভাবে লিপস এন্ড বাউন্ডসের অফিসে হানা দিয়েছে বলে অভিযোগ। আর এই অভিযোগেই কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

সূত্রের খবর, ইডি যেই এফআইআর দায়ের করেছিল তা খারিজের পাশাপাশি যে ফাইল ডাউনলোড করা হয়েছে সেই বিষয়েও কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে দায়ের করা এই মামলায় অভিষেকের আইনজীবীর দাবি করেছেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে ইডির দায়ের করা ECIR খারিজের আবেদনের রায়দান স্থগিত রয়েছে। সেই সময় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশি চালাচ্ছে। তাই এখনই মামলার শুনানির আবেদন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: SSC নিয়ে তোলপাড় করা অভিযোগ! এবার বিরাট নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট

জানা গিয়েছে আবেদনের ভিত্তিতেই শুক্রবার বিকেল ৪ টেয় শুনানির দিন স্থির হয়েছে। প্রসঙ্গত, তল্লাশি চালানোর সময় অফিসে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার কর্মী চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিলেন পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের মহিলা ডেপুটি ম্যানেজার। একই ব্যাংকের সিটি সেন্টার ব্রাঞ্চের আসিটেন্ট ম্যানেজারও।

পরে, চন্দন ইডি-র গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে সংস্থার একটি কম্পিউটারে ১৬টি ফাইল অচেনা ডাউনলোডের অভিযোগ দায়ের করেন কলকাতা পুলিশের (Kolkata police) কাছে। ইডি-র বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, ২১ থেকে ২২ অগাস্টের তল্লাশির মধ্যে একটি ডেস্কটপ কম্পিউটারে ১৬ টি এক্সেল ফাইল ডাউনলোড করে ফেডারেল এজেন্সি।

high court

আরও পড়ুন: ফের বিতর্কের ইঙ্গিত! এবার রবীন্দ্রনাথের গানের শব্দ বদলে ফেলার প্রস্তাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, কারণ কী?

এরপরেই ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। কলকাতা পুলিশ ইডির কাছে গোটা বিষয়টি খোলসা করতে বলে। এরপর জবাবি চিঠি দিয়ে ইডি পুলিশকে জানায়, তাদের মধ্যেই এক আধিকারিক ওই কম্পিউটারে মেয়ের জন্য হস্টেলের খোঁজ নিচ্ছিলেন, সে সময়ই কোনও কারণ বশত ওই এক্সেল ফাইলগুলো ডাউনলোড হয়েছে। যদিও ইডির জবাবে সন্তুষ্ট নয় লালবাজার।

আবার অন্যদিকে, গত ২৩ অগাস্ট এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইডি জানায়, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের চিফ অপারেটিং অফিসার ছিলেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। আর সংস্থার CEO পদে রয়েছেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওদিকে মেয়ো রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, ‘আমার অফিসে’ তল্লাশি হয়েছে। তারপর থেকেই আরও জল্পনা শুরু হয়।