বাংলাহান্ট ডেস্ক : সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের জলছাপযুক্ত একটি দশ টাকার নোটের ছবি বেশ ভাইরাল হয়েছে বিগত কিছুদিন ধরেই। অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, ভারতে (India) জহরলাল নেহেরুর আমলে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের জলছাপযুক্ত এই ১০ টাকার নোট বাতিল করা হয়।
ভারতে (India) নেতাজির ছবিযুক্ত নোট
বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পেজে নেতাজির জলছাপ যুক্ত যে ১০ টাকার নোটের ছবিটি ভাইরাল হয়েছে তা নিয়ে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। যদিও একাধিক সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী, ভারতে (India) কোনও দিনই বৈধভাবে প্রচলিত ছিল না নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের (Netaji Subhash Chandra Bose) জলছাপযুক্ত এই দশ টাকার নোট।
আরোও পড়ুন : একাদশে রেজিস্ট্রেশন করেও দিচ্ছে না উচ্চ-মাধ্যমিক! চার বছরে ৪ লক্ষ স্কুলছুট বাংলায়
যে ১০ টাকার নোটের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেটি জারি করা হয়েছিল রেঙ্গুনে সুভাষ চন্দ্র বোস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আজাদ হিন্দ ব্যাংকের তরফে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (Reserve Bank of India) কর্তৃক কখনওই এমন কোনও নোট জারি করা হয়নি ভারতে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, স্বাধীন ভারতে প্রথম জারি করা মুদ্রাটি ছিল ১ টাকার নোট।
আরোও পড়ুন : রাতারাতি বদলে গেল দুই নায়িকা! ফের নতুন মুখের এন্ট্রি জলসার জনপ্রিয় সিরিয়ালে
রাজা জর্জের প্রতিকৃতির বদলে সারনাথের অশোক স্তম্ভের সিংহ প্রতীক সহ সেই নোটটি বাজারে ছাড়া হয়েছিল ১৯৪৯ সালে। পরবর্তীকালে ১৯৫৪ সালে ভারতের (India) বাজারে আসে ১০০০, ৫০০০ এবং ১০০০০ টাকার নোট (Note)। এরপর অশোক স্তম্ভের ওয়াটারমার্ক সিরিজ সহ ১০ টাকার নোট লঞ্চ করা হয় ১৯৬৭ এবং ১৯৯২ সালে।
১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে ৫০ টাকার নোট, ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৯ সালের মধ্যে ১০০ টাকার নোট ভারতের (India) বাজারে নিয়ে আসে রিজার্ভ ব্যাংক। উপরে উল্লেখিত সময়কালে যে নোটগুলি বাজারে ছাড়া হয়েছিল তাতে ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অগ্রগতি, ভারতীয় শিল্পকলা চিত্রিত প্রতীক। ১৯৭০ সালে প্রথমবারের জন্য “সত্যমেব জয়তে” প্রতীকযুক্ত নোট আসে ভারতের বাজারে।
১৯৮৭ সালের অক্টোবরে ৫০০ টাকার নোটে প্রথম ব্যবহার করা হয় মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতি এবং অশোক স্তম্ভের জলছাপ। ১৭ নভেম্বর, ২০২১ সালে দ্য হিন্দুর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের ১১৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জনসমক্ষে আনা হয়েছিল ব্যাংক অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স কর্তৃক জারি করা একটি নোট। The Better India-এর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই প্রসঙ্গে একটি পোস্টও করা হয়।
ইনস্টাগ্রামের এই পোস্টে লেখা হয়, ‘১৯৮০-র দশকে, অবসরপ্রাপ্ত ঠিকাদার রাম কিশোর দুবে তার দাদার রামায়ণ বইতে এই বিরল নোটগুলির মধ্যে একটি খুঁজে পেয়েছিলেন। তার দাদা, প্রাগিলাল, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (আইএনএ) সদস্য ছিলেন এবং বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে গোপন কাজের জন্য নেতাজি তাকে এই নোটটি পুরষ্কার হিসেবে দিয়েছিলেন।’ পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার এই পোস্টে আরও দাবি করা হয়, “ওড়িশার কটকের নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু জাদুঘরে আজাদ হিন্দ ব্যাংক কর্তৃক জারি করা মুদ্রা এবং মুদ্রা নোটের একটি বিরল সংগ্রহ রয়েছে।”