রাম মন্দিরের VIP পাস চাই? জয় শ্রীরাম বলে শেয়ার করলেই খেল খতম, খোয়া যাবে সব টাকা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : আর মাত্র কয়েকদিনে অপেক্ষা, তারপরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) হাত দিয়ে রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে রাম মন্দিরে (Ram Mandir)। আপাতত এই নিয়েই মেতে রয়েছে গোটা দেশ। এই আবহে বাজার হাতাতে নেমে পড়েছে সাইবার জালিয়াতরাও (Cyber Scam)। নিমেষের অসতর্কতা আর খোয়া যাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট।

   

রাম মন্দির (Ram Mandir) উদ্বোধনের প্রস্তুতি তুঙ্গে। চলছে শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়। গোটা দেশের নজর এখন রাম মন্দিরের উপর। সকলেই চাইছে একবার মন্দির দর্শন করে আসতে। তার মধ্যেই একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা (Fake WhatsApp Message) ছড়িয়ে পড়েছে বাজারে। যার বক্তব্য, মন্দিরে প্রবেশের জন্য ভিআইপি পাস পাওয়া যাচ্ছে, আর তাও আবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে তার জন্য করতে হবে একটি কাজ।

প্রথমেই জানাই, এই বার্তার সাথে একটি লিঙ্কও পাঠাচ্ছে মেসেজ প্রেরকরা। এটি একটি APK (অ্যান্ড্রয়ে়ড অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজ) ফাইল, ‘Ram Janmabhoomi Grihsampark Abhiyan.APK’। যার সাথে লেখা রয়েছে ‘ভিআইপি অ্যাক্সেস পেতে রাম জন্মভূমি গৃহসম্পর্ক অভিযান ইনস্টল করুন এবং হিন্দুদের সঙ্গে শেয়ার করুন… জয় শ্রী রাম…’।

এখন প্রশ্ন হল, এই হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা কি আদৌ সত্যি? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনও উদ্দেশ্য? জানিয়ে রাখি, এরকম কোনও মেসেজ কেন্দ্রীয় সরকার বা মন্দিরের ট্রাস্টের তরফ থেকে পাঠানো হচ্ছেনা। এই APK ফাইল ইন্সটল করলেই ফাঁকা হয়ে যাবে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট।

চলুন দেখে নিই, কী কী তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে এই জালিয়াতরা

১. লগইন সার্টিফিকেট, পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ড নম্বর, আইডি, ব্রাউজিং হিস্ট্রির মত ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি আপনার নিজস্ব বার্তাও চলে যেতে পারে জালিয়াতদের হাতে।

২. ব্যাঙ্ক ডিটেইলস যেমন, অ্যাকাউন্ট নম্বর, লেনদেনের বিবরণের পাশাপাশি আপনার মেসেজ কন্ট্রোল করতে পারবে এই জালিয়াতরা। সেক্ষেত্রে OTP-র মতো আর্থিক ডেটাও চুরি যেতে পারে ব্যাঙ্কিং অ্যাপ হ্যাক করে।

৩. আপনার লোকেশন ট্র্যাক করতে পারবে। এমনকি আপনার ফোনের ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তথ্য রেকর্ড করা যাবে এবং আপনাকে আরও নানাভাবে বিপদে ফেলতে পারবে জালিয়াতরা।

তাই এই ধরণের কোনও বার্তা পেলে তা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করুন এবং সতর্ক হোন। সেই সাথে পরিচিতদেরও এই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করুন যাতে মানুষ বিপদে পড়ার হাত থেকে বাঁচতে পারে। পাশাপাশি অজানা প্রেরকের কাছ থেকে এই ধরনের বার্তা পেলে সেই ব্যক্তিকে রিপোর্ট করে ব্লক করে দেওয়াই উচিত মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। সম্ভব হলে থানায় একটি রিপোর্ট দায়ের করুন।