আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও মিলবে না মে মাসের বেতন! ভোটের আবহে মাথায় হাত সরকারি শিক্ষকদের

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। কলকাতা হাই কোর্টের এক রায়ে চাকরি হারিয়েছিলেন হাজার হাজার শিক্ষক (Government School Teachers)। সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে অবশ্য সেই রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলে চাকরি পাওয়া প্রার্থীরা। বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তবে এর মাঝেই সামনে এল একটি বড় খবর।

বাংলা যখন এসএসসি দুর্নীতি মামলার রায় নিয়ে সরগরম, তখন রাজধানীর বুকে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মে মাসের বেতন পাবেন না বলে জানা গেল। আসলে দিল্লিতে (Delhi) সরকারি বিদ্যালয়ের (Government School) শিক্ষকদের হাজিরার জন্য একটি নতুন অ্যাপ চালু করা হয়েছিল। তবে এখনও অনেক জায়গায় সেই অ্যাপের ব্যবহার শুরু হয়নি। এমতাবস্থায় কড়া পদক্ষেপ নিল এমসিডি। সম্প্রতি স্কুল শিক্ষকদের উদ্দেশে একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন এমসিডি (MCD) কমিশনার।

   

সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হাজিরার জন্য যদি এমসিডি স্মার্ট অ্যাপ ব্যবহার না করা হয়, তাহলে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সেই সঙ্গেই বলা হয়েছে, এমসিডির এই স্মার্ট অ্যাপ ব্যবহার না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এপ্রিল এবং মে মাসের বেতনও কেটে নেওয়া হবে। এবার থেকে এই অ্যাপ ব্যবহার করেই শিক্ষকদের হাজিরা দিতে হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘অম্বানি, আদানি টাকা দিলে আর খারাপ বলব না’! মন্তব্য অধীরের, মহুয়ার প্রসঙ্গ টেনে তুলোধোনা মালব্যর

জানা যাচ্ছে, এমসিডির আওতায় থানা ৯টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এই সপ্তাহ অবধি এই অ্যাপে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। সেই সঙ্গেই রেজিস্ট্রেশন করেছেন ১৫৯ জন শিক্ষক ও ২৫১ জন অশিক্ষক কর্মী। এই অবস্থায় সকল জেলা শিক্ষা আধিকারিকদের উদ্দেশে এমসিডি কমিশনারের তরফ থেকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীকে এই অ্যাপে নিজেদের নাম রেজিস্টার করতে হবে।

একইসঙ্গে সকল জেলার ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে এবার থেকে মাইনে দেওয়ার ক্ষেত্রে এমসিডি স্মার্ট অ্যাপের তথ্য দেখতে হবে। সেই অ্যাপের বায়োমেট্রিক লগ ইন হাজিরার ওপর ভিত্তি করেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের বেতন প্রদান করা হবে। ফলত যে সকল শিক্ষকরা এখনও অবধি এই অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করেননি, তাঁদের মাইনে কাটা যাবে।

Government school teachers

ভোটের আবহে এমন নির্দেশিকা সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই মাথায় হাত পড়েছে বহু শিক্ষকের। এমসিডি স্কুল শিক্ষকদের কথায়, এমনভাবে হাজিরার নির্দেশিকা জারি করাটা বেআইনি। অন্যদিকে ইতিমধ্যেই দিল্লি হাই কোর্টের তরফ থেকে বলা হয়েছে, উক্ত অ্যাপে হাজিরার ওপর ভিত্তি করে মাইনে কেটে নেওয়া যাবে না। আদালতের তরফ থেকে এমন নির্দেশ দেওয়া হলেও এমসিডির তরফ থেকে সম্প্রতি কড়া নির্দেশিকা জারি হয়েছে। আর তাতেই চটেছেন শিক্ষকরা।

Sneha Paul
Sneha Paul

স্নেহা পাল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তরের পর সাংবাদিকতা শুরু। বিগত ২ বছর ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর