টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গ

জামাইষষ্ঠীর দিনেই শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে পেটালেন আইবিতে চাকরিরত জামাই! অভিযোগ দায়ের থানায়

বাংলাহান্ট ডেস্ক : কী হওয়ার কথা ছিল আর কী হল! জামাইষষ্ঠীর দিন বেশ ভালো করে সেজেগুজে বউকে নিয়ে জামাইবাবাজি যাবেন শ্বশুরবাড়ি। সেখানে শাশুড়ির কাছে আশির্বাদ নিয়ে, তাঁর কাছ থেকে উপহার নিয়ে রকমারি ভুরিভোজ সাঁটাবেন জামাই। এটাই তো দস্তুর। কিন্তু হল ঠিক তার উল্টো। জামাইয়ের বিরুদ্ধে জামাইষষ্ঠীর দিনেই পুলিশের দ্বারস্থ হলেন তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্ত্রী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে কলকাতার হরিদেবপুর এলাকায়।

কার্যত মূল অভিযোগ জামাইষষ্ঠীর দিনেই শাশুড়িকে ধরে নাকি পিটিয়েছেন জামাই। তাও যে সে জামাই নন, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো বিভাগে চাকরি করা সেই জামাইবাবাজি রীতিমত এএসআই পদে কর্মরত। এই বিষয়ে হরিদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরও হয়েছে। ঘটনার তদন্তেও নেমেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, বছরচারেক আগে হরিদেবপুর থানা এলাকার কবরডাঙার রামচন্দ্রপুরের বাসিন্দা লাবণী গোস্বামীর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল এএসআই সঞ্জীব গোস্বামীর। সঞ্জীব আইবি ডিপার্টমেন্টে লর্ড সিনহা রোড অফিসে কর্মরত। এ বছর জামাই ষষ্ঠীতে যাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণও আসে হরিদেবপুরের শ্বশুর বাড়ি থেকে। কিন্তু কাজ থাকায় যেতে পারবেন না বলে জানান এএসআই সঞ্জীব কর্মকার। মন মানেনি শ্বশুর-শাশুড়ির। তাই রবিবার সকাল সকালই জামাইয়ের বাড়ি চলে আসেন তাঁরা।

জামাই ষষ্ঠীতে এভাবে চলে যাওয়া হয়তো মেনে নিতে পারেননি সঞ্জীব ও তাঁর বাড়ির লোক।লাবণীর মা ঊষাদেবী বলেন, ‘প্রথমে ভাল ব্যবহার করলেও কিছুক্ষণ পরে সঞ্জীবের বাবা আমাকে ধাক্কা দিতে শুরু করে, লাবনীর বাবাকে মারধর করে। এমনকি সঞ্জীবও হুমকি দেয়।’ ভয়ে পালিয়ে আসেন তাঁরা। সেই সময় বাধা দিতে গিয়ে মারও খান শ্বশুর খোকন অধিকারীও। সেই সময় বাড়িতেই ছিলেন লাবণী। তিনিও বাবা-মাকে বাঁচাতে এসে মার খান স্বামীর হাতে। এরপরেই এদিন সকালে সঞ্জীবের বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন খোকন ও ঊষা অধিকারী। তবে হরিদেবপুর থানায় যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে সেখানে শুধু সঞ্জীবের নাম আছে তেমন নয়। সঞ্জীবের বাবা, মা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। খোকন-ঊষার অভিযোগ, জামাই-সহ ওই চারজনই এদিন হামলা চালান তাঁদের বাড়িতে। যদিও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তাঁরা সঞ্জীব ছাড়া আর কাউকে দেখেননি।

এদিন সঞ্জীবের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন লাবণী। তিনি জানিয়েছেন, বিয়ের সময়ে সঞ্জীব যৌতুক হিসাবে আসবাবপত্র, সোনার গয়না-সহ নগদ ৬ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। তবে আরও টাকা দাবি করে সঞ্জীব মাঝেমধ্যেই অশান্তি করতেন। শুধু তাই নয়, সার্ভিস রিভলভার নিয়ে গুলি করে মারার হুমকিও নাকি তিনি দিতেন তাঁকে। এমনকি টাকা না দিলে খোকন-ঊষাকেও খুন করার হুমকি দিতেন। বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়েই যখন-তখন অশান্তি করত সঞ্জীব। মারধরও করতেন লাবণীকে বলেই অভিযোগ। এতদিন মুখ বুজে সব চুপ করে সব মেনে নিলেও এদিন নিজের চোখের সামনে বাবা-মাকে আক্রান্ত হতে দেখে য়ার চুপ থাকতে পারেননি লাবণী। বাবা-মাকে বুঝিয়ে সোজা তাঁদের নিয়ে হাজির হন হরিদেবপুর থানায়।

Related Articles